মুফতি খাইরুল ইসলাম
নাবালিগ বা বালেগ হওয়ার কাছাকাছি নয় এমন (প্রায় নয় বছরের কম বয়সী) মেয়েদেরকে কোনো পুরুষ শিক্ষক অনলাইনে কিংবা সরাসরি সামনাসামনি পড়ানো শরীয়তসম্মত ও বৈধ।
কিন্তু বালেগ বা বালেগের কাছাকাছি বয়সী মেয়েদের ক্ষেত্রে পুরুষ শিক্ষকের সামনে বসিয়ে পড়ানো কোনোভাবেই বৈধ নয়, কারণ এ বয়স থেকে পর্দার বিধান প্রযোজ্য হয়ে যায়। তবে যদি পর্দার আড়াল থেকে বা অনলাইনে পড়ানো হয় এবং একসঙ্গে কেবল একজন ছাত্রী থাকে, যদিও এটি সরাসরি ‘খালওয়াত’ (একান্তে থাকা) নয়, কিন্তু শরীয়তের দৃষ্টিতে এর হুকুম খালওয়াতের মতোই, কেননা এতে ফিতনার আশঙ্কা থাকে।
তাই একক ছাত্রীকে অনলাইনে একা পড়ানো ফিতনার সম্ভাবনার কারণে বৈধ নয়। হ্যাঁ, যদি সেই সময়ে ছাত্রীর কোনো মাহরাম পুরুষ (যেমন বাবা, ভাই ইত্যাদি) বা কোনো মহিলা উপস্থিত থাকে, তাহলে এ পদ্ধতি শরীয়তসম্মত হবে।
আর যদি একাধিক ছাত্রী থাকে, তাহলে পর্দা, শালীনতা ও শিক্ষার অন্যান্য শরয়ি শর্ত মেনে পুরুষ শিক্ষকের পক্ষে তাদেরকে পড়ানো বৈধ। তবে বৈধ পরিস্থিতিতেও পাঠের সময় অপ্রয়োজনীয় কথা, হাসি-ঠাট্টা বা হালকাভাবে আলাপচারিতা করা সম্পূর্ণরূপে বর্জনীয়।
অনলাইনে পাঠদানের বৈধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—শিক্ষা কেবল শব্দভিত্তিক (অডিও কলের মাধ্যমে) হবে; শিক্ষক ও ছাত্রীর পারস্পরিক ছবি বা ভিডিও দৃশ্যমান থাকবে না। অর্থাৎ ভিডিও কল, লাইভ ভিডিও ইত্যাদি মাধ্যমে মুখোমুখি হওয়া বৈধ নয়। যদি ক্যামেরা ব্যবহারের প্রয়োজন হয়, তবে সেটির ফোকাস শুধুমাত্র নির্জীব বস্তুর (যেমন বোর্ড, বই ইত্যাদি) দিকে থাকবে। ক্যামেরার সামনে শিক্ষক বা ছাত্রীর সরাসরি উপস্থিতি শরীয়ত অনুযায়ী অনুমোদিত নয়।
ফাতাওয়ায়ে রহীমিয়ায় বলা হয়েছে—
‘ব্যালেগা ও সাবালকত্বের কাছাকাছি কিশোরী মেয়েদেরকে পর্দাহীন অবস্থায় পড়ানো শরিয়তসম্মত নয়। তবে পর্দা বজায় রেখে এবং একান্তে (নির্জনে) না হলে কিছুটা অনুমতি আছে—তবুও তা পরিপূর্ণ সতর্কতার পরিপন্থী। তাই উত্তম হলো, তাদেরকে যেন কোনো মাহরাম পুরুষ বা কোনো নারী শিক্ষকের মাধ্যমেই শিক্ষা দেওয়া হয়।’ [ফাতাওয়ায়ে রহীমিয়া, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ১৮৬, দারুল ইশআ’আত]
[আল মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ ২/২৯০-২৯১, আরো এসেছে ১৩/১৩]
মূল : আল জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া বিন্নুরি টাউন করাচী। ফাতাওয়া নং 144407101151




