অপূর্ব পাল

অপূর্ব পালের কুরআন অবমাননা, ভাবনার কয়েকটি দিক

ইবনুল কালাম
নর্থ-সাউথের অপূর্ব পাল নামের এক বেয়াদব কুরআন অবমাননা করেছে। এরপর সে অবমাননার দৃশ্য ভিডিও করে তার ফেসবুকে আপলোড করেছে। এই ঘটনায় সচেতন নাগরিক সমাজ প্রতিবাদ জানাচ্ছে। কেউ কেউ তাকে সেইফ এক্সিট দেয়ার জন্য নয়া বয়ানও হাজির করেছে। এ বিষয়ে কয়েকটি নোক্তা দেই।
এক.
সে যদি মানসিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণই হতো, তাহলে তার মাথায় এটা কিভাবে খেলল যে তাকে গীতা বা অন্য ধর্মীয় গ্রন্থ নয়; কুরআনকেই অবমাননা করতে হবে। তার মানে সে আসলে মানসিক ভারসাম্যহীনই নয়। এটি তাকে সেইফ এক্সিট দেয়ার জন্য নয়া বয়ান হিসেবে হাজির করা হয়েছে।
এই ছেলেটি নিয়মিত নেশা করে। এখন নেশা করে যদি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়েও পড়ে, তাহলে তার কুরআন অবমাননাকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। নেশা করে যে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে যায়, সে তালাক দিলে বউ তালাক হয়ে যায়। মানে শরীয়ত তাকে দায়মুক্ত ভাবে না। বরং শাস্তিবিধান করে। তার মানে এই ছেলেকে ছাড় দেয়ার কোনো অর্থই হয় না।
যারা তাকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বলে সেইফ এক্সিট দেয়ার চেষ্টা করছেন, তাদের কাছে প্রশ্ন, যদি আপনার ঘনিষ্ঠ কাউকে সে হত্যা করতো, তাহলে কি আপনি তাকে ছেড়ে দিতেন?
সবচেয়ে বড় কথা হলো, তার পরিবার তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলেনি। সে নিজেও কখনো বলেনি। এখন তাকে বা তার পরিবারকে এই বয়ান শেখানো হচ্ছে। হয়তো দু’দিন পরে তারাও এই কথা বলে পার পেয়ে যাবে। অথর্ব ইন্টেরিম তাকে সেইফ এক্সিট দিয়ে দেবে। এখন এসব বলে মুসলমানদেরকে বোকা বানানো হচ্ছে।
এছাড়া তার ভিডিও ও কথাবার্তা শুনে তাকে ভারসাম্যহীন যে বলবে, তাকেই বরং ভারসাম্যহীন বলা দরকার। নয়তো এমন স্বজ্ঞানে অপরাধ করার কাউকে ভারসাম্যহীন তাকে বলতে পারতো না।
দুই.
অনেকেই সুশীল সেজে বলছেন, এটিও পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের আওয়ামী কৌশল। সেজন্য এই ফাঁদে পা দিয়ে পরিবেশে উত্তেজনা ছড়ানো যাবে না। সবাইকে শান্ত হওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।
কথা হচ্ছে, এই বিষয়টা কি প্রশাসন বুঝছে? যদি বলেন, বুঝতেছে, তাহলে তারা এটার প্রমাণ দিক। এইটারে রিমান্ডে নিয়ে আচ্ছারকম একটা ধোলাই দিক, দিয়ে জাতির কাছে প্রমাণ দিক যে সরকার তাদের সেন্টিমেন্ট বুঝতেছে। এবং শাস্তিটা দৃষ্টান্তমূলক দিক। যেন ভবিষ্যতে আর কোনো জ্ঞানপাপী এই ধরনের কাজ করার সাহস করতে না পারে।
তখন জনতা বুঝে যাবে যে প্রশাসন দেশকে আওয়ামী ফাঁদ পড়া থেকে বাঁচাতে আগ্রহী। কিন্তু প্রশাসন যখন গ্রেফতার করে তাকে নিরাপত্তা প্রদান করে, তখন তো ফাঁদের ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখা সমীচীন নয়। এক পক্ষ কেবল ধৈর্যেরই পরীক্ষা দেখিয়ে যাবে, আর অন্য পক্ষ বাড়াবাড়ি করেই যাবে, এটা তো আসলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নয়। এটি হলো দাস-মালিকের সম্পর্ক। আমরা তো দাস-প্রভুর সম্পর্ক চাই। চাই সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি।
এখন প্রশাসন যদি আন্তরিকতা দেখাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য আমাদেরই রাজপথে নামতে হয়। এখন এটাকে যদি উস্কানিতে পা-দেয়াই বলেন, তাহলে এরজন্য দায়ী প্রশাসন। মুসলিম নাগরিক সমাজ নয়।
তিন.
এই ধরনের অবমাননার ঘটনা কিছুদিন পরে পরেই ঘটে। একেকজনের ক্ষেত্রে সুশীলরা একেক রকম বয়ান হাজির করে। কই প্রশাসন কি একটা নজির দেখাতে পেরেছে? কেবল গ্রেফতার করে। সাধারণ নাগরিক সমাজ থেকে তাকে সেইফ করে। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হলে ছেড়ে দেয়।
এর অর্থ হলো অথর্ব প্রশাসনের এ ধরনের কোনো মুরোদই নাই। এখন সারাজীবন কি বসেই থাকবে মানুষ? ধৈর্যই বা কতদিন ধরা যায়। এখন মুসলিম কিছু মানসিক ভারসাম্যহীনকে ছেড়ে দিন, যে ওই ছেলেটাকে আচ্ছা রকম ধোলাই দেবে। তাহলে তো আর কোনো অপরাধ থাকবে না। উভয়ই মানসিক ভারসাম্যহীন। কারোই বিচার করা লাগবে না।
চার.
ছেলেটির সাম্প্রতিক অ্যাক্টিভিটি চেক করতে হবে। এর পেছনে অন্য কোনো রাঘব বোয়ালের ইন্ধন আছে কিনা, তাও দেখতে হবে। যেভাবে মুহূর্তের মধ্যে সুশীলরা বয়ান হাজির করেছে, তাতে পেছনে কোনো রাঘব বোয়ালের কারসাজি থাকার কথা হাওয়ায় উড়িয়ে দেয়া যায় না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top