ফিলিস্তিন রাষ্ট্র, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি, গাজা, ইসরাইল, দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান

অবিলম্বে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার আহ্বান ৬০ ব্রিটিশ এমপির

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে লেবার পার্টির প্রায় ৬০ জন সংসদ সদস্য (এমপি) যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিকে আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) পাঠানো এক চিঠিতে এই আহ্বান জানানো হয়।

ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজের এক ঘোষণার পরপরই এই চিঠির কথা প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে তিনি গাজার বাসিন্দাদের জোরপূর্বক রাফায় স্থানান্তর করার এবং সেখানে একটি ঘনবসতিপূর্ণ ‘বাস্তুচ্যুতদের অঞ্চল’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে পরবর্তী ধাপে ফিলিস্তিনিদের মিসরে কিংবা সমুদ্রপথে নির্বাসনে পাঠানো হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চিঠিতে লেবার এমপিরা রাফার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ইসরাইল সরকারকে এই পরিকল্পনা থেকে বিরত রাখার জন্য ব্রিটিশ সরকারের প্রতি অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান। একইসাথে তারা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারী এমপিদের মধ্যে কেন্দ্র ও বামপন্থী উভয় ধারার প্রতিনিধিরাই রয়েছেন। তারা ডেভিড ল্যামিকে সতর্ক করে বলেন, গাজায় বর্তমানে যা ঘটছে, তা ‘জাতিগত নির্মূল’ বলেই মনে হচ্ছে।

তারা বলেন, ‘ফিলিস্তিনকে একটি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে ব্যর্থ হওয়া মানে হলো আমরা দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের নীতি থেকে সরে যাচ্ছি এবং ধরে নিচ্ছি যে বর্তমান দমনমূলক পরিস্থিতি চলতে থাকবে। যার ফলে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এক সময় নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে বা ইসরাইলের সাথে একত্রীকরণ ঘটতে পারে।’

উল্লেখ্য, গত সোমবার ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ রাফাহ শহরের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে একটি ‘মানবিক শহর’ স্থাপনের পরিকল্পনার রূপরেখা প্রকাশ করেন। পরিকল্পনায় বলা হয়, কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশির পর প্রাথমিকভাবে ৬ লাখ ফিলিস্তিনিকে সেখানে স্থানান্তর করা হবে এবং তাদের আর শহর ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে মার্কিন সহায়তায় ইসরাইল গাজায় বর্বর হামলা চালিয়ে আসছে। এতে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৯৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত বা আহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। লাখ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত। দুর্ভিক্ষে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে বহু শিশুও রয়েছে।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান/আল জাজিরা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top