অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানানোর বিধান

অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানানোর বিধান

শায়খ ইবনুল কালাম

এক.
শুভেচ্ছা শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো কারো প্রতি মঙ্গল কামনা করা। সুতরাং যেখানে কারো মঙ্গল নিহিত, সেখানে তাকে শুভেচ্ছা জানানো যাবে। কোথাও মঙ্গল না থাকলে শুভেচ্ছা জানানো অনুচিত এবং শব্দের অপব্যবহার হবে।

এখন কোনো অমুসলিম যদি তার ধর্মীয় আচার পালন করে, তাহলে সেক্ষেত্রে তাকে শুভেচ্ছা জানানো যাবে না। কারণ, এই আচার-অনুষ্ঠান তাকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে; এতে তার কল্যাণ নেই। কল্যাণহীন কোনো কাজে শুভেচ্ছা জানানো ঠিক নয়। সেজন্য অমুসলিমের জন্য তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় শুভেচ্ছা জানানো ঠিক নয়।

ইসলামে কল্যাণকামিতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এক হাদিসে কল্যাণকামিতার গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে কল্যাণকামিতাকেই দ্বীন হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে। নবীজি সা. বলেছেন, الدين النصيحة তথা কল্যাণকামিতাই দ্বীন। যে ধর্ম কল্যাণকামিতার প্রতি এতো গুরুত্বারোপ করেছে, সেই ধর্মের অনুসারীদের কল্যাণকামিতাহীন কোনো কাজে শুভেচ্ছা জানানো কোনোভাবেই উচিৎ হতে পারে না।

দুই.
বিভিন্ন হাদিস শরীফে অমুসলিমদের সাথে সাদৃশ্যতা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, কেউ অমুসলিমদের সাথে সাদৃশ্যতা রাখলে তাকে অমুসলিমদের সাথেই হাশরের মাঠে উঠানো হবে। অর্থাৎ তার প্রতিও আল্লাহ তায়ালার কঠোর আচরণের আশঙ্কা রয়েছে।

আল্লাহর রাসূল সা. বলেন,

من تشبه بقوم فهو منهم

তথা যে যার সাথে সাদৃশ্যতা রাখে, সে তাদের দলভুক্ত। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৩৯৮৯)

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. বলেন,

” من بنى في بلاد الأعاجم فصنع نيروزهم ومهرجانهم وتشبه بهم حتى يموت وهو كذلك حشر معهم يوم القيامة”

যে ব্যক্তি অনারবী দেশে বাস করে, আর তাদের (অমুসলিমদের) নববর্ষ উদযাপন করে ও তাদের সাথে সাদৃশ্যতা রাখে, এরপর এই অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়, কিয়ামতের দিন তাকে ওদের (অমুসলিমদের) সাথেই পুনরুত্থিত করা হবে। (ইমাম বাইহাকী রহ. প্রণীত সুনানে কুবরা, ৯/৩৯২; দারুল কুতুবিল ইলমিয়া)

أن أبا ذر الغفاري، دعي إلى وليمة فلما حضر إذا هو بصوت فرجع فقيل له: ألا تدخل؟. فقال :«أسمع فيه صوتا، ومن كثر سوادا كان من أهله، ومن رضي عملا كان ‌شريك ‌من ‌عمله».

অর্থাৎ একবার আবু জর গিফারী রা.কে একটি ওলিমার অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেয়া হয়েছে। তিনি যখন সেখানে পৌঁছালেন, একটা আওয়াজ শুনতে পেলেন। এরপর তিনি সেখান থেকে ফিরে এলেন। তাকে বলা হলো, অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না? তিনি বললেন, আমি সেখানে একটি আওয়াজ শুনতে পেয়েছি। যে ব্যক্তি কারো দল ভারি করে, সে তাদেরই দলভুক্ত গণ্য হয়। যে ব্যক্তি কোনো কাজের প্রতি সন্তুষ্ট থাকে, তাহলে সে ওই কাজের অংশীদার গণ্য হয়। (নাসবুর রায়াহ : ৪/৩৪৬-৩৪৭)

সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তাদের প্রতি শুভেচ্ছা জানায়, তাহলে অমুসলিমদের সাথে তার একটি সাদৃশ্যতা তৈরি হলো। যেহেতু অমুসলিমদের সাথে সাদৃশ্যতা অবলম্বন করা মুসলমানের জন্য নিষিদ্ধ, তাই তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানানো জায়েজ নয়।

যদি কোনো ব্যক্তি এই বিধান না জেনে শুভেচ্ছা জানিয়ে থাকে, তাহলে তার জন্য উচিৎ তওবা-ইস্তেগফার করে আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং ভবিষ্যতে এই জাতীয় ইস্যুতে সতর্ক থাকা। এ বিষয়ে দারুল উলূম দেওবন্দের সাবেক প্রধান মুফতি মাহমুদ হাসান গাংগুহী রহ. বলেন,

“زید کو صورتِ مسئولہ میں سچے دل سے توبہ واستغفارضروری ہے، کفار کے مذہبی تہوار میں شرکت حرام ہے،مگر چونکہ اس کے دل میں ہولی کی تعظیم نہیں تھی،بلکہ نفرت تھی، اس لیے زید اسلام سے خارج نہیں ہوا اور نکاح بھی نہیں ٹوٹا۔۔۔”

তথা, যায়েদকে এ অবস্থায় খাঁটি মনে তওবা করা জরুরি। কাফেরদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা হারাম। কিন্তু যেহেতু সে মনে শ্রদ্ধা না রেখেই অংশগ্রহণ করেছে, তাই সে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়নি এবং তার বিয়েও ভঙ্গ হয়নি। (ফাতাওয়া মাহমুদিয়া : ১৯/৫৭৩)

তিন.
অমুসলিমরা তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যেসব কুফুর বা শিরকি কর্মকাণ্ড করে থাকে, শুভেচ্ছা জানানোর মধ্য দিয়ে তার এক ধরণের সমর্থন দেয়া হয়। আর সমর্থন দেয়া সহযোগিতারই নামান্তর। কারণ, এতে তাদের দল ভারী হয়। আল্লাহর নাফরমানিতে তারা আরো নির্ভীক হয়। আর শরীয়তের নির্দেশ হলো, তাকওয়া ও ভালো কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারবে। কিন্তু গুনাহ বা সীমালঙ্ঘনমূলক কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করা যাবে না। অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানানোর মধ্য দিয়ে যেহেতু গুনাহের কাজে সমর্থন ও সহযোগিতা হয়, সেজন্য শুভেচ্ছা জানানো বৈধ হবে না।

এমনিভাবে কোনো কাজে শুভেচ্ছা জানানো অর্থ হলো ওই কাজের প্রতি নিজের সন্তুষ্ঠি প্রকাশ করা। সুতরাং অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানানোর অর্থ হলো সেখানে অনুষ্ঠিত শিরকি কাজের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করা। আর শিরকি কাজের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করা জায়েজ নেই।

চার.
ফিকহের কিতাবাদিতে অমুসলিমদের অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানানোকে স্পষ্টকে নিষেধ করেছে। যেমন বিখ্যাত ফাতাওয়া গ্রন্থ ফাতাওয়ায়ে তাতারখানিয়াতে এসেছে,

“اجتمع المجوس يوم النيروز فقال مسلم خوب رسمي نهاد اند أو قال نيك آئين نهاده اند يخاف عليه الكفر.”

অর্থাৎ নববর্ষের দিন অগ্নিপূজকরা কোথাও একত্রিত হলো, এ দেখে কোনো মুসলমান যদি বলেন, আহ, কী দারুণ আচার-অনুষ্ঠান! তাহলে তার ব্যাপারে কুফুরির আশঙ্কা রয়েছে।

ফাতাওয়ার আরেক বিখ্যাত গ্রন্থ রদ্দুল মুহতারে বলা হয়েছে,

“(والإعطاء باسم النيروز والمهرجان لا يجوز) أي الهدايا باسم هذين اليومين حرام (وإن قصد تعظيمه) كما يعظمه المشركون (يكفر) قال أبو حفص الكبير: لو أن رجلا عبد الله خمسين سنة ثم أهدى لمشرك يوم النيروز بيضة يريد تعظيم اليوم فقد كفر وحبط عمله اهـ ولو أهدى لمسلم ولم يرد تعظيم اليوم بل جرى على عادة الناس لا يكفر وينبغي أن يفعله قبله أو بعده نفيا للشبهة .”

অর্থাৎ … যদি কোনো ব্যক্তি নববর্ষ বা অমুসলিমদের বিশেষ ধর্মীয় আচার উপলক্ষ্যে কোনো অমুসলিমকে হাদিয়া দেয়, আর তার মনে ওই আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি কোনো সম্মান বা শ্রদ্ধাবোধ না থাকে, বরং সামাজিক রীতি হিসেবে দিয়ে থাকে, তাহলেও তার জন্য এই কাজটি অনুচিত বিবেচিত হবে। বিধর্মী আচারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের আশঙ্কা থেকে বাঁচার জন্য হাদিয়া দিতে চাইলে অনুষ্ঠানের আগে বা পরে কোনো সময়ে দেয়া উচিৎ। অবশ্য ওই আচারের প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধ না থাকায় কুফুরি হবে না। (রদ্দুল মুহতার : ৬/৭৫৪; এইচ এম সাঈদ মুদ্রণ)

দারুল উলূম দেওবন্দের ফাতাওয়ায় বলা হয়েছে,

غیر مسلم کو اس کے تہوار پر مبارک بادی پیش کرنا صحیح نہیں صرف مسلمانوں کو ان کے عید و بقرعید کے موقعہ پر مبارک بادی پیش کرسکتے ہیں۔

অর্থাৎ অমুসলিমকে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানানো ঠিক নয়। তবে অমুসলিমের জন্য দুই ঈদে মুসলমানদেরকে শুভেচ্ছা জানানোর সুযোগ আছে। (ফাতাওয়া নম্বর : ১৪৬০৩৮)

পাকিস্তানের বিখ্যাত দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া বানুরী টাউন তাদের এক ফাতাওয়াতে লিখেছে,

غیرمسلموں کے مذہبی تہواروں کے موقع پران کو مبارک باد دینے کے بارے میں شرعی حکم یہ ہے کہ چوں کہ یہ تہوار مشرکانہ اعتقادات پرمبنی ہوتے ہیں اورمسلمان ہونے کی حیثیت سے ہمارے لیے شرک سے برأت اوربے تعلقی کااظہارضرروی ہے،ان کے تہواروں پر مبارک باد دینا گویا ان کے شرکیہ عقائد کی تائید کرنی ہے؛ اس لیےان کے تہواروں پر مبارک باد دینا جائزنہیں۔اگر اس سے ان کی دین کی تعظیم مقصود ہو تو کفر کا اندیشہ ہے۔ اور اگرمبارک بادی کے موقع پر صراحتاً کوئی شرکیہ جملہ بول دے تو اس کے شرک ہونے میں تو کوئی شک نہیں ہوگا۔ اگر ان کے دین کی تعظیم بھی نہ ہو، اور کوئی شرکیہ جملہ نہ ہو تب بھی غیر مسلم کے تہواروں پر مبارک باد ی دینا جائز نہیں ہے۔

لہذا ہندوؤں کو ہولی یا ان کے کسی بھی تہوار پر مبارک باد دینا جائز نہیں۔

তথা অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়ে শরীয়তের বিধান হলো- এসব অনুষ্ঠানে শিরকি নানা রীতি-নীতি ও আচার-বিশ্বাসের সংশ্লিষ্টতা থাকে, আর প্রত্যেক মুসলমানের জন্যই যেকোনো ধরনের শিরকের সাথে সংশ্লিষ্টতা বর্জন করা আবশ্যক। যেহেতু এসব অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানানোতে তাদের বিশ্বাসের প্রতি এক ধরনের সমর্থনের মতো হয়ে যায়, সেজন্য এসব অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানানো জায়েজ নেই।

যদি এই শুভেচ্ছা জানানোর মধ্য দিয়ে ওই ধর্মকে শ্রদ্ধা জানানো উদ্দেশ্য হয়, তাহলে এতে কুফুরির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া শুভেচ্ছা জানানোর উদ্দেশ্যে যদি কোনো শিরকি বাক্য বলা হয়, তাহলে শিরক হওয়ার মধ্যে কোনো সন্দেহ থাকবে না।

আর যদি শিরকি কথাবার্তাও বলল না, আবার ওই ধর্মকে শ্রদ্ধা জানানোও উদ্দেশ্য না থাকে, তথাপি শুভেচ্ছা জানানো জায়েজ নেই। (বানুরী টাউন, ফাতাওয়া নম্বর : ১৪৪৪০৮১০০৭৯৫)

মুফতি মাহমুদ হাসান গাংগুহী রহ. তার ফাতাওয়াতে এক প্রশ্নের উত্তরে লেখেন, অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের দিন তাদেরকে শুভেচ্ছা জানানো ঠিক নয়। (ফাতাওয়া মাহমুদিয়া : ১৯ : ৫৬৭)

মুফতি সালমান মনসুরপুরী দা.বা. বলেন, ‘কোনো মুসলমানের জন্য অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে শুভেচ্ছা জানানো জায়েয নয়। এমনকি তাদের উৎসব উপলক্ষে ছবি টাঙানোও দ্বিগুণ পাপ।’ (কিতাবুন নাওয়াযিল: ১৬/৩২৯)

পাঁচ.
কুরআন, হাদীস ও ফিকহের দলিলসমূহ থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসরত অমুসলিম নাগরিকদের নিরাপত্তা, জান-মাল সংরক্ষণ ও ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। কোনো মুসলিম ব্যক্তি বা দলের দায়িত্ব নয় যে তারা বিশেষভাবে তাদের শুভেচ্ছা জানাবে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেবে, কিংবা আলাদা নিরাপত্তা বাহিনী গঠন করবে। বরং নিরাপত্তা বাহিনীতে কর্মরত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদেরকে কাজে লাগালেই অধিক কল্যাণকর হবে।

মূলকথা,
-অমুসলিমদের অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানানো জায়েজ নেই। কারণ, এই শুভেচ্ছা জানানোর মধ্য দিয়ে তাদের আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি এক ধরনের মৌন সমর্থন হয়। আর মুসলমানের জন্য কোনো ধরনের কুফুরিকেই মৌন সমর্থন দেয়াও জায়েজ নেই। এছাড়া শুভেচ্ছা জানানোর অর্থ হলো মৌন সমর্থনের মাধ্যমে তাদের পাল্লা ভারি করা। আর যে যার পাল্লা ভারী করবে, আখেরাতে সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে।

-শুভেচ্ছা জানানোর ভাষাতে যদি কুফুরির মিশ্রণ থাকে, তাহলে সেটি কুফুরি বলে বিবেচিত হবে। আর যদি শুভেচ্ছার ভাষাতে কুফুরির মিশ্রণ না থাকে, তবে ওই ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ফুটে ওঠে, তাহলে এতে কুফুরির আশঙ্কা রয়েছে। যদি শুভেচ্ছার ভাষাতে শ্রদ্ধাবোধও না থাকে, তথাপি শুভেচ্ছা জানানো থেকে বিরত থাকা একান্ত কাম্য। কারণ, এতে অপাত্রে কল্যাণ কামনা হয়।

-মুসলমানরা অমুসলিমদেরকে শুভেচ্ছা জানাতে পারবে না। তবে অমুসলিমরা মুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধা জানাতে পারবে। কারণ, মুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান তাদের আল্লাহমুখী করে, যা কল্যাণকর। সেজন্য শুভেচ্ছা জানানো যথার্থ। আর অমুসলিমদের ধর্মীয় আচার তাদের আল্লাহ বিমুখ করে, যা অকল্যাণকর। সেজন্য তাদেরকে শুভেচ্ছা জানানো ঠিক নয়।

-অমুসলিমদেরকে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে কোনো উপহার দেয়া যাবে না। যদি তাদেরকে কোনো উপহার দিতেই হয়, তাহলে অনুষ্ঠানের আগে বা পরে দেবে। যেন অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে উপহার মনে না হয়। কেউ যদি অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে উপহার দিয়ে থাকে, তাহলে কুফুরির আশঙ্কা রয়েছে। ইমাম আবু হাফস আল কাবির বলেন, কেউ যদি একনিষ্ঠভাবে ৫০ বছর পর্যন্ত ইবাদত করে, এরপর অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে কাউকে একটি ডিমও হাদিয়া দেয় আর তাতে ওই দিনকে সম্মান প্রদর্শন উদ্দেশ্য হয়, তাহলে তার পুরো আমল বরবাদ হয়ে হবে আর এই কাজ কুফুরির পর্যায়ভুক্ত গণ্য হবে।

-অমুসলিমদের উৎসব উপলক্ষ্যে কোনো ধরনের ছবি টাঙানোও জায়েজ নেই।

-কেউ যদি এই ধরনের কোনো কাজ করে থাকে, তাহলে তার জন্য আল্লাহ তায়ালার কাছে তাওবা-ইস্তেগফার করা আবশ্যক এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ইস্যুতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

-যদি অমুসলিমদের নিরাপত্তা বিধান করতে হয়, তাহলে সরকারকে সেটি করতে হবে। মুসলিম কোনো ব্যক্তি বা ইসলামপন্থী কোনো দলের উপর এই দায়িত্ব বর্তাবে না।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে দ্বীনের উপর অটল-অবিচল থাকার তাওফিক দান করেন। আমিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top