আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা, এস আলম, সাইফুল আলম মাসুদ, সম্পাদকের বাছাই

আওয়ামী লীগকে ফেরাতে নীলনকশা

দেশকে আবার অস্থিতিশীল করে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসন ফেরাতে নতুন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। এই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জনগণের অর্থ পাচার ও ব্যাংক তহবিল লুটের অভিযোগে অভিযুক্ত এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি তিনি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে গিয়ে পলাতক শেখ হাসিনার সাথে একাধিক গোপন বৈঠক করেন এবং সেখানে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়।

উমরাহ সফরের আড়ালে রাজনৈতিক এজেন্ডা

২ আগস্ট সিঙ্গাপুর থেকে সৌদি আরবে যান সাইফুল আলম মাসুদ। ৩ আগস্ট তিনি মক্কার ফেয়ারমন্ট হোটেলে ওঠেন। বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, উমরাহ পালনের আড়ালে মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশ থেকে পালানো আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে বৈঠক। ওই হোটেলেই তিনি পলাতক নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং পরবর্তীতে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে মক্কায় বিলাসবহুল হোটেল কেনার উদ্দেশ্যে বৈঠক করেন।

৪ আগস্ট তিনি মদিনায় গিয়ে চট্টগ্রামের কয়েকজন আওয়ামী ব্যবসায়ীর সাথে বৈঠক করেন। এরপর ৬ আগস্ট দুবাই হয়ে বিশেষ ফ্লাইটে পৌঁছান নয়াদিল্লিতে। সেখানে তার সাথে ছিলেন স্ত্রী, ছোট ছেলে এবং ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এক চেয়ারম্যান। দিল্লিতে তারা ওঠেন পাঁচ তারকা হোটেল দি ওবেরেই নিউ দিল্লিতে।

শেখ হাসিনার সাথে গোপন বৈঠক

৮ আগস্ট দুপুরে নম্বরপ্লেটবিহীন গাড়িতে হোটেল থেকে বের হয়ে তিনি যান নয়াদিল্লির Lutyens Bungalow Zone-LBZ এলাকায় শেখ হাসিনার বাসভবনে। সেখানে তিনি দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২৭ মিনিট পর্যন্ত অবস্থান করেন। এ সময় শেখ হাসিনার সাথে একান্ত আলাপের পাশাপাশি ভারতের কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।

এই বৈঠকে শেখ হাসিনা দেশকে অস্থিতিশীল করে ক্ষমতায় ফেরার পরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং এস আলমের কাছে চার হাজার পাঁচশ কোটি টাকা চান। এস আলম এই অর্থ দিতে সম্মত হন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই অর্থ ব্যবহার করা হবে আন্তর্জাতিক লবিং, দেশে নাশকতা সৃষ্টি, সরকারি আমলা ও পুলিশকে কিনে ফেলা, জামিন কার্যক্রমে ব্যয় এবং এস আলম গ্রুপের শ্রমিকদের মাধ্যমে আন্দোলন সংগঠনের জন্য।

এই অর্থ ব্যবস্থাপনায় তিনজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়—জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

অর্থ প্রদান ও পরবর্তী বৈঠক

৮ ও ৯ আগস্ট এস আলম হোটেলে বসে পালিয়ে থাকা আওয়ামী নেতাদের সাথে একাধিক বৈঠক করেন। ১০ আগস্ট আবার শেখ হাসিনার বাসভবনে যান এবং রাত পর্যন্ত অবস্থান করেন। এ সময় তিনি শেখ হাসিনাকে আড়াই হাজার কোটি টাকা প্রদান করেন, যা আদানি গ্রুপে তার বিনিয়োগ থেকে উত্তোলন করা হয়। নভেম্বর মাসে আরও দুই হাজার কোটি টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য তিনি মুম্বাই যান এবং ১৫ আগস্ট দিল্লিতে ফিরে এসে ১৬ আগস্ট শেষবারের মতো শেখ হাসিনার সাথে বৈঠক করেন। ১৭ আগস্ট সিঙ্গাপুরে ফিরে যান তিনি।

জাতীয় নিরাপত্তায় হুমকি

এস আলম গ্রুপ চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের দিল্লি সফর ও শেখ হাসিনার সাথে একাধিক গোপন বৈঠককে কেন্দ্র করে দেশকে আবারও রাজনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দেয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পরিকল্পনা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার এবং তা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে ব্যবহার কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতিতে দেশবাসীর সতর্ক থাকা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া এখন সময়ের দাবি।

সূত্র : নয়া দিগন্ত

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top