নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর চার্জশিট দ্রুত দাখিল এবং গ্রেপ্তার আসামিদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রসিকিউশন বিভাগকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের স্বল্পসংখ্যক নেতাকর্মী প্রায় প্রতিদিনই কয়েক মিনিটের ঝটিকা মিছিল করছে। সাধারণত ১৫ থেকে ৫০ জন অংশ নেয় এসব মিছিলে। কুমিল্লার চান্দিনা মহাসড়ক, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, গুলশান, বাংলামোটর, ধানমন্ডি, গুলিস্তানসহ একাধিক এলাকায় এ ধরনের মিছিল হয়েছে। কোথাও কোথাও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।
গত ৫ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে কয়েকশ কর্মী নিয়ে বড় মিছিল করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনা ও তার সংসদ গত বছরের ৫ আগস্ট দেশত্যাগের পর এটিই ছিল সবচেয়ে বড় সমাবেশ। একই দিনে বিজয় সরণিতেও মিছিল হয়। নিরাপত্তা সংস্থার মতে, জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতার সহযোগিতায় এ মিছিল সম্ভব হয়েছিল।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী বলেন, ঝটিকা মিছিলের বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। নিয়মিত অভিযানে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীর বাইরে জেলাগুলোতেও একই ধরনের তৎপরতা চালানো হবে। প্রয়োজনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও বৈঠক করে সমন্বয় করা হবে, যাতে আওয়ামী লীগ কর্মীরা মাঠে নামতে না পারে।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম শানতু বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ সব প্রযোজ্য আইনের মাধ্যমে জনশৃঙ্খলা রক্ষা করা হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে কোনো শৈথিল্য নেই।
এদিকে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ওমর ফারুক মনে করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর অনৈক্যের সুযোগ নিচ্ছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।




