জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা

আওয়ামী সাংস্কৃতিক বয়ান ও চব্বিশের বিপ্লবের সীমা

ইফতেখার জামিল

আওয়ামীলীগ একটা ‘বামমূখী সেকুলার’ দল, এই ট্যাগটা এখন কোথাও দেখবেন না। যেনবা আওয়ামীলীগের কোন ‘আদর্শ’ ছিলো না, আওয়ামী শাসনে কোন সিস্টেমেটিক ব্যবস্থা জারি ছিলো না। যদি আওয়ামীলীগের সাথে ‘বামমূখী সেকুলার’ ট্যাগটা উল্লেখ করতে লজ্জা লাগে, তাহলে ‘ডানপন্থী-দক্ষিণপন্থী’ ট্যাগগুলোও বাদ দেওয়া দরকার।

ট্যাগের রাজনীতিটা বুঝা অত্যন্ত জরুরি।

চব্বিশের গণআন্দোলন/বিপ্লব আওয়ামী রাজনীতিকে অনেকাংশে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের অর্থনৈতিক কাঠামোও খানিকটা ব্যাকফুটে চলে গেছে। যারা জীবনে চাঁদাবাজির কথা কল্পনাও করেনি, তারা এখন কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে এবং আমি একে ‘ইতিবাচক’ভাবেই দেখি। ‘চাঁদাবাজিতেও’ গণতন্ত্র আসুক।

তবে চব্বিশের গণআন্দোলনে আওয়ামী সাংস্কৃতিক কাঠামোতে হাত দেওয়া যায়নি। অনেকক্ষেত্রে এই কাঠামো আরও শক্তিশালী হয়েছে, নতুন বয়ান নিয়ে হাজির হয়েছে। হঠাৎ করেই আমরা দেখছি, বিএনপি নাকি আর ডানপন্থী নেই, তারা মধ্যমন্থী হয়ে গেছে। আওয়ামী আমলে প্রধান বুদ্ধিজীবী-মিডিয়ায় এই ট্যাগটা কখনো দেখেছেন, মনে করতে পারেন? এনসিপিও সাংস্কৃতিকভাবে যথেষ্ট সাহস দেখাতে পেরেছে বলে আমার মনে হয় না। তারাও একটা মধ্যপন্থী বাবলে ঘুরপাক খাচ্ছে।

মধ্যপন্থা মোটেই খারাপ নয়—মুশকিল হল, দুনিয়ার সবাই নিজেদেরকে মধ্যপন্থী বলে দাবী করে, বিশ্বাসও করে। সিপিবিকে জিজ্ঞাসা করে দেখেন—তারা বলবে, আমরা বামপন্থী বিপ্লব চাই না, সোশ্যাল ডেমোক্রেসি চাই, এটাই মধ্যপন্থা। জামাতকে জিজ্ঞাসা করেন, তারা বলবে, প্রিমডার্ন শরীয়া-গঙ্গিবাদ চাই না, আমরা চাই কল্যাণরাষ্ট্র—কাজেই, আমরাই প্রকৃত মধ্যপন্থী। মুশকিল হল—বাংলাদেশের কালচারাল বিভক্তিগুলো কমানো গেল না।

যদি গণতন্ত্র/ইকোনমি আবার ফেইল করে, তবে আমাদেরকে অত্যন্ত ভারী মূল্য পরিশোধ করতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top