তুর্কি সংবাদপত্র দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধে লেখক জিহাদ ইসলাম ইলমাজ যুক্তি তুলে ধরেছেন, তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যে প্রত্যাশিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিটি শুধুমাত্র একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রতীক।
লেখকের ব্যাখ্যায়, ২০২৪ সালে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন এবং দামেস্কে একটি নতুন প্রশাসনের উত্থানের পর এই অভূতপূর্ব পুনর্মিলনের সূচনা ঘটে। তিনি মনে করেন, আঞ্চলিক পরিবর্তনের ফলে উভয় দেশই স্বাভাবিকভাবে একে অপরের ঘনিষ্ঠে আসার যৌক্তিক ভিত্তি খুঁজে পেয়েছে। দামেস্ক তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়, অন্যদিকে আঙ্কারা চায় একটি স্থিতিশীল প্রতিবেশী, যা শরণার্থী সংকট মোকাবেলায় এবং দক্ষিণ সীমান্তে মানবিক ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
ইলমাজের মতে, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কেবল নিরাপত্তারক্ষার সীমায় আবদ্ধ নয়। এটি ভবিষ্যৎ সিরিয়া পুনর্গঠন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গঠনে সহায়তা এবং সিরিয়ার ভেতরে বিভিন্ন সামাজিক উপাদানের মধ্যে ঐক্য ও সমন্বয় প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও সৃষ্টি করে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে দামেস্ক বিশেষভাবে তুরস্কের সামরিক সক্ষমতা—বিশেষ করে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন প্রযুক্তি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা প্রযুক্তি—গ্রহণে আগ্রহী। লেখক মনে করেন, এই অংশীদারিত্ব আঙ্কারা ও দামেস্কের পারস্পরিক নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি অঞ্চলটিতে এক নতুন ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য পুনর্গঠনের একটি উদ্যোগ।
তিনি বলেন, তুরস্কের ঐতিহাসিক আঞ্চলিক ভূমিকা শুধু সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না, বরং রাজনৈতিক ভারসাম্য ও কৌশলগত উপলব্ধির ওপরও গঠিত। আজ যে প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হচ্ছে, তা সেই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের আধুনিক রূপ।
ইলমাজ আরও মন্তব্য করেন, তুরস্কের দক্ষিণ সীমান্তে একটি সমন্বিত বিমান ও স্থল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে—বিশেষত পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় উত্তেজনা এবং সামুদ্রিক এখতিয়ার সংক্রান্ত বিরোধের প্রেক্ষাপটে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আঙ্কারা মার্কিন প্রভাব কমে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট কৌশলগত শূন্যতা পূরণ করতে চাইছে এবং একসঙ্গে মস্কোর সঙ্গে সম্পর্কও জোরদার করছে।
সূত্র : আল জাজিরা




