পাকিস্তান-আফগানিস্তান

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলা, টিটিপি নিয়ে তালেবানের অবস্থান কী?

মাসুম বিল্লাহ
গত ৯ই অক্টোবর পাকিস্তান সেনাবাহিনী আফ..নিস্তানে হাম.লা চালিয়ে দাবি করেছে যে, তারা তিতিপির প্রধান নূর ওয়ালি মাহসুদকে টার্গেট করেছে এবং তাকে হ.ত্যা করেছে। সাম্প্রতিক পাক-আফ.গান যুদ্ধের সূচনা এখান থেকেই।
পাকিস্তানের এই মিথ্যা দাবির পরপরই তিতিপি প্রধান একটি অডিও বার্তায় জানিয়েছে, সে নিরাপদে আছে, পাকিস্তানের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
এরপর আরও নিশ্চয়তার জন্য আজ আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করেছে তিতিপির মিডিয়া। যেখানে তিতিপি প্রধান দেখিয়ে দিয়েছে যে, সে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় অবস্থান করছে। অর্থাৎ সে পাকিস্তানের ভেতরেই রয়েছে এবং জীবিত ও সুস্থ আছে। পাশাপাশি তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তান ইমারতে ইসলামি আফ..নিস্তানের বিরুদ্ধে যেই অভিযোগ আনছে (ইমারা তিতিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে এবং তাদের ভূখণ্ড পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে দিচ্ছে) সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এদিকে আফ..নিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমীর খান মুত্তাকী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা ইয়াকুব সুস্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আফ..নিস্তানে তিতিপির কোনো উপস্থিতি নেই। তিতিপি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ইস্যু।
পাকিস্তানের জালিম সেনাবাহিনী তিতিপির নাম দিয়ে আফ..নিস্তানের নিরীহ জনগণকে হ.ট্যা করছে। আমে.রিকার খাহেশ পূরণে তিতিপির ছুতো ধরে আবারও ইমারাকে ধ্বংস করার পায়তারা করছে।
প্রশ্ন আসতে পারে, তাদেরকে যদি ছাত্র ভাইয়েরা প্রশ্রয় না-ই দেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট বক্তব্য পেশ করে না কেন যে, “তিতিপি সন্ত্রাসী, তাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক নেই, তাদের কর্মকাণ্ড জায়েজ নেই ইত্যাদি?”
উত্তর খুবই সহজ। ছাত্র ভাইয়েরা অন্য দেশের কোনো সংগঠনের ব্যাপারে সেভাবে সুস্পষ্ট মন্তব্য করে না। তারা এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতেই রাজি না। এটা যে দেশের বিষয়, সে দেশের উলামায়ে কেরাম বুঝুক। এইজন্য ছাত্র ভাইয়েরা বিরোধপূর্ণ বিষয়ে সাধারণত স্থানীয় উলামায়ে কেরামের উপর ছেড়ে দেন। এক্ষেত্রে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি লালন করেন।
ছাত্র ভাইদের যেটা করার ছিল তারা সেটা করেছে। তারা সর্বোচ্চ ফতোয়া বোর্ড থেকে ফতোয়া জারি করেছে যে, আফ..নিস্তানের বাহিরে আমিরের অনুমতি ছাড়া জি.হাদে বের হলে সেটা জি.হাদ বলে সাব্যস্ত হবে না। এমনকি মোল্লা ইয়াকুব সহ একাধিক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি স্পষ্ট করেছেন যে, আফ..নিস্তানের বাহিরে গিয়ে (আমার প্রবল ধারণা এর দ্বারা উদ্দেশ্য পাকিস্তান) আফ.গান জনগণ যেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছে সেটা জিহা.দ নয়, বরং এটা সাধারণ যুদ্ধ। এমনকি ইতিপূর্বে ইমারা সরকার একাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে যারা আফ..নিস্তানে থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এক্টিভিটি কিংবা বক্তব্য দিয়েছে।
সুতরাং এরপরেও যদি কারো বুঝে না আসে, তাহলে সে পাকিস্তানের জালিম সেনাবাহিনীর উপর অন্ধ বিশ্বাস করে বসেছে এবং পণ করেছে যে, এর বিপরীত কোনো কথা শুনতেই রাজি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top