আবারো ঘনিভূত হচ্ছে ইরান-ইসরাইল সঙ্ঘাত আশঙ্কা। সম্প্রতি ইসরাইলি সংবাদপত্র ইসরাইল হায়োমের এক নিবন্ধে এমনটিই দাবি করেছেন ইয়োসি মানচুরভ। তিনি জেরুজালেমের মিসগাভ ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড জায়নিস্ট স্ট্র্যাটেজি-এর ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ।
মানচুরভ জোর দিয়ে বলেন, ইরান ও ইসরাইল বর্তমানে কৌশলগত সঙ্ঘাতের এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ইসরাইল দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেয়া হবে না। অন্যদিকে ইরান দাবি করছে, তারা ১২ দিনের যুদ্ধে যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, তার প্রতিশোধ নেবে।
প্রতিবেদনে ইরানি রক্ষণশীল সংবাদপত্র ভাতান এমরোজ-এর এক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি একটি আগাম হামলা চালানো নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। এই বিতর্কের প্রেক্ষাপট ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক হুমকি, যাতে তিনি ইরানকে তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থেকে বিরত রাখার কথা বলেছেন।
ভাতান এমরোজ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে যে ইসরাইল একটি নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ইরানকে পরামর্শ দিয়েছে যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা বা এমনকি এক ঘণ্টা আগেই যেন তারা আগাম আঘাত হানে। এই আগাম হামলাকে তারা দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরোধ প্রতিষ্ঠার একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে এবং ইরানি জনমতকে এই ধরনের অভিযানের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়নি; বরং শর্তসাপেক্ষে সাময়িকভাবে আক্রমণ স্থগিত করেছে, অর্থাৎ যদি ইসরাইলি হামলা বন্ধ থাকে। ফলে পরিস্থিতির ভুল ব্যাখ্যা বা ভুল পদক্ষেপের কারণে উত্তেজনার হঠাৎ বৃদ্ধি এবং সঙ্ঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে।
এই প্রেক্ষিতে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফের কৌশলগত উপদেষ্টা ও সাবেক পারমাণবিক আলোচক মেহেদী মোহাম্মদী ইনস্টাগ্রামে একটি বিতর্কিত ছবি পোস্ট করেন, যেখানে ইসরাইলের উপর পারমাণবিক হামলার চিত্র তুলে ধরা হয়। পরে বিতর্কের মুখে তিনি এই পোস্ট সরিয়ে ফেলেন এবং দাবি করেন যে এটি তার অজান্তেই পোস্ট হয়েছিল। তবে তিনি পারমাণবিক অস্ত্রকে প্রতিরোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পক্ষে তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, আসন্ন অক্টোবরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পুনরায় সক্রিয় করার জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর হুমকিও ইরানে উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে। এ বিষয়ে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মন্তব্য করেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা ইরানের বিরুদ্ধে একপ্রকার সামরিক আক্রমণের সমতুল্য।
ইয়োসি মানচুরভ উপসংহারে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরাইলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে তাদের কর্মকাণ্ডের সঠিক মূল্যায়ন করা, ভুল এড়ানো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত সমন্বয় জোরদার করা। এতে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা সম্ভব হতে পারে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধও এড়ানো যাবে।
সূত্র : আল জাজিরা




