আসিফ আদনান, রেজাউল করিম আবরার, জাকারিয়া মাসুদ

আবারো জঙ্গি নাটক : ৫ আগস্টের পর নতুন ধাপে ইসলামপন্থীদের দমনচেষ্টা

এস এম সাওয়াবুল্লাহ্ হক

আসিফ আদনান, জাকারিয়া মাসুদ, রেজাউল করিম আবরার সহ অন্যান্যদের নিয়ে করা ATU এর মামলাটার একটু বেশি বিস্তারিত Daily Star তাদের ইংরেজি পত্রিকাতে পাবলিশ করে। সেখানে যা বলা হয়েছে-
.
ডেইলি স্টার মামলার বিবৃতির একটি অনুলিপি দেখেছে, যেখানে ফয়সালের কথিত স্বীকারোক্তির বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ফয়সাল তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর মতাদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন এবং গত বছরের অক্টোবরে পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে গিয়েছিলেন। তিনি জানান, তার সঙ্গে ছিলেন আহমেদ জুবায়ের ওরফে যুবরাজ (২৩), যিনি পরবর্তীতে পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তানে সেনাবাহিনীর এক অভিযানে নিহত হন।

ফয়সাল আরও বলেন, তারা গত বছরের ১৮ অক্টোবর ঢাকা ত্যাগ করেন, ২৯ অক্টোবর পাকিস্তানে পৌঁছান এবং ৬ নভেম্বর তোরখাম সীমান্ত দিয়ে আফগানিস্তানে প্রবেশ করেন। পরে ফয়সাল ১৬ নভেম্বর দুবাই হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন, কিন্তু জুবায়ের থেকে যান এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সীমান্ত হামলায় নিহত হন।
ফয়সালের দাবি অনুযায়ী, ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হায়দার TTP-র জন্য বাংলাদেশি তরুণদের নিয়োগ ও উদ্বুদ্ধকরণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া রেজাউল, আসিফ, জাকারিয়া ও সানাফসহ আরও কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি TTP-র মতাদর্শ অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া এবং “জিহাদের প্রস্তুতি” নেওয়ার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।”
.
উপরের অংশটুকু পড়লে যে কেউ বুঝবে এটা হাসিনার আমলের জঙ্গি নাটকগুলো যাদের দ্বারা পরিচালিত হত এই মামলাটাও তাদের দ্বারাই করা হয়েছে। অর্থাৎ ৫ই অগস্টের পর এ দেশের মুসলিমদেরকে আবারো নতুন করে না মানুষ বানানোর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
.
এটার ন্যারেশন শুরু হয় বিশিষ্ট নন প্রোফেশনাল স্বঘোষিত ইসলামোফোবিক সেক্যুলার ফ্যাক্টচেকার কদরুদ্দীন শিশিরের হাত ধরে। কদরুদ্দীন রিসেন্ট তার প্রতিষ্ঠান ডিসেন্টের মাধ্যমে একটি ইনভেস্টিগেশন পাবলিশ করে যেখানে সে দেখায় বাংলাদেশের একজন যুবক আহমেদ জোবায়ের টিটিপি-র পক্ষ হয়ে লড়াই করতে গিয়ে পাকিস্তান বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হন।
.
ইনভেস্টিগেটর হিসেবে কদরুদ্দীন তার দায়িত্বটুকু সম্পন্ন করে কিন্ত এরপর বাকি দায়িত্বটুকু নিজেদের কাঁধে নিয়ে নেয় হাসিনার আমলের জঙ্গি নাটকের ভিলেনেরা। ATU সহ অন্যান্য আইন শৃঙ্খলাবাহিনী স্বাভাবিকভাবেই যেহেতু একজন যুবককে পাকিস্তানে যাওয়া বন্ধ করতে পারে নাই তাই তারা এটাকে কেন্দ্র করে জঙ্গি নাটক এবং মিথ্যে মামলার কারসাজি সাজাবে সেটা আগেই অনুমেয় ছিল। কিছুদিন আগে জুলকারনায়ের সায়ের এবং চ্যানেল আইয়ের জিল্লুর এ সংক্রান্ত একটি ষড়যন্ত্রমূলক ন্যারেটিভ পেশ করেছিল। অর্থাৎ জঙ্গি নাটক বানানোর জন্য তাদের কিছু একটা প্রয়োজন ছিল সেটাই কদরুদ্দীন শিশির তাদের হাতে উঠিয়ে দিয়েছে। এরকম ন্যারেটিভ হলি আর্টিজানের সময়তেও ঘটেছিল।
.
হাসিনা সরকার যখন হলি আর্টিজানের নৃশংস ষড়যন্ত্র ঠেকাতে ব্যর্থ হয় তখন স্বাভাবিকভাবেই পাশ্চত্যের নিকট নিজেদের অবস্থানকে সুদৃড় করার জন্য একের পর এক জঙ্গি নাটক করে যায়। অসংখ্য যুবক এবং তার পরিবারের নারী সদস্যদেরকে জঙ্গি নাটকের বলির শিকার হয়ে এই দুনিয়া ত্যাগ করতে হয়। সে সময়ে জঙ্গি নাটক এতটাই বাড় বাড়ন্ত হয়ে উঠে যে তা দেশের যেকোন সচেতন নাগরিককে আতঙ্কিত করে তোলে।
.
বেগম খালেদা জিয়া সে সময়ে মিডিয়ার নিকটে সাহসী কিছু বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি বলেন –
““‘এই সরকার কথা কথায় কিছুদিন পরপর জঙ্গির ধোয়া তুলে। অমুক জায়গায় এতজন জঙ্গি পাওয়া গেছে। তারপর জঙ্গিগুলোকে ধরে, সত্যিকার জঙ্গি কি না জানি না। কিছু লোক তাদের ধরা থাকে। এগুলো না খেয়ে খেয়ে দীর্ঘদিন বন্দী করে রেখে তাদের দাড়ি-চুল বড় করে, বিদঘুটে চেহারা হয়ে যায়। তারপর তাদের জঙ্গি বলে সামনে নিয়ে আসে। আর কতগুলো পুলিশ আছে, অস্ত্রশস্ত্র সাজিয়ে বলে এরা জঙ্গি, হরকাতুল জেহাদ, এদের ধরেছি। তার কিছুদিন পর দেখা যায়, লোকগুলোকে ধরে, তাদের গুলি করে মেরে ফেলা হয়। কেন গুলি করে মেরে ফেলা হয়? দেশে আইন আছে, আদালত আছে, জিজ্ঞাসাবাদ করবে। এগুলো দুঃখজনক ঘটনা।’”
.
এই একই কাজ আবারো শুরু করেছে বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এগুলোর বিরুদ্ধে এখনই রুখে না দাঁড়ালে এর ফাঁদে সকলকে পা দিতে হবে। আসিফ আদনান ভাই সহ অন্যান্য ভাইদেরকে নিয়ে বাংলাদেশের রাইট উইং সেক্যুলার গোষ্ঠী পাঁচই অগস্টের পর যে পরিমাণ মিথ্যে ছড়িয়েছে সেই মিথ্যের ছাপ স্পষ্ট ডেইলি স্টারের রিপোর্টে। এই মিথ্যে মামলাতে যে রাইট উইং সেক্যুলার নামক কাল্টের সম্পৃক্ততা আছে তা স্পষ্ট বোধগম্য। যারা মিথ্যে দিয়ে যুদ্ধ করে তারা হারিয়ে যায় তাদের মিথ্যের অন্ধকারে। তারা নিজেরাই নিজেদেরকে ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট হয়ে উঠে।
.
এখন যা করতে হবে –
১. এই মামলা এই প্রাথমিক অবস্থায় ঠেকানোর জন্য যা যা করা দরকার তাই তাই করতে হবে। এবং এখানে ইন্ডিভিজুয়ালি এই মামলা নিয়ে লড়াই করলে হবে না। যাদের নাম এসেছে তাদের সকলকেই একে অপরের সাহায্যকামী হয়ে এই মামলাটির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।
.
২. এজন্য মোস্ট প্রোফেশনাল উকিল নিয়োগ করতে হবে। যিনি সর্বচ্চ চেষ্টা চালাবে এই মামলা নিয়ে লড়াই করতে
.
৩. এধরণের মামলার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একজন বিশ্বস্ত পরিচিত আলেমের তত্ত্বাবধানে প্রকাশ্য ক্রাউড ফান্ডিং উঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। দরকার হলে একটা ডেডিকেটেড সাইট খুলতে হবে সেখানে সব সময় আপডেট হতে থাকবে মামলার খরচাদি। অর্থাৎ যা হবে প্রকাশ্যে হবে। এধরণের মামলার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভিক্টিমের পকেট থেকে একটা টাকাও যেন খরচ করা না লাগে সেই ব্যবস্থা নেওয়া।
.
৪. আমাদের মিডিয়ার সহায়তা নিতে হবে। এধরণের মিথ্যে মামলার জন্য বিশ্বস্ত মিডিয়াগুলোকে তথ্যানুসন্ধানী রিপোর্ট বানাতে হবে যেখানে এই মামলা যাদের তত্ত্বাবধানে হয়েছে তাদেরকে জিজ্ঞাসার আওতায় আনতে হবে।
.
৫. এই মামলার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে যদি প্রচলিত আইনি ব্যবস্থায় সুযোগ থাকে তাহলে তাদেরকে মানহানি কিংবা হয়রানির মামলা দেওয়া।
.
৬. যারা ভাল ইংরেজি পারেন তারা জঙ্গিবাদ নিয়ে হাসিনার আমলের নাটক এবং বর্তমান সময়ে শুরু হওয়া নাটক নিয়ে ভাবগাম্ভীর্য প্রোফেশনালি কলাম লিখে গার্ডিয়ানের মত পত্রিকাগুলোতে পাঠান। জঙ্গিবাদ নিয়ে যে নাটক মঞ্চস্থ হয় বিদেশী পত্রিকাগুলোর মধ্যে গার্ডিয়ান এ ব্যাপারে জ্ঞাত।
.
৭. এই বিষয়টি নিয়ে আলেম ওলামা এবং খতিবদেরকে জুমার বয়ানে বক্তব্য রাখার অনুরোধ করেন।
.
৮. মিথ্যে মামলার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ব্যবস্থা করতে হবে। দরকার হলে পোস্টারিং করতে হবে
.
৯. যার যতগুলো বৈধ চ্যানেল আছে ,ভিক্টিমদের যেন কোন প্রকার কোন ক্ষতি তা শারীরিক কিংবা মানসিক কোনটাই যেন না হয় বরং তাদের জামিন অতিদ্রুত করা সম্পন্ন করা যায় চ্যানেলগুলো ব্যবহার করে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
.
১০.জঙ্গি নাটক বানিয়ে আবারো যে ফ্যাসিবাদের ন্যারেটিভ শক্তিশালী করা হচ্ছে সেই বয়ান তুলতে হবে।
.
১১. ATU, SB, CTTC এবং র‍্যাব সহ আরো যত এলিট ফোর্স আছে এগুলো ডিসব্যান্ড করার আলাপ আবারো জোরেশোরে তুলতে হবে। এদের হাসিনার আমলের আমলনামা নিয়ে বেশি বেশি লিখতে হবে। এদেরকে ভয় পেলে চলবে না।
.
১২. দেশ বরেন্য আলেম ওলামাদের সহায়তা নিন। তাদের নিকট গিয়ে এই ষড়যন্ত্রের বিষয়টি তুলে ধরুন।
.
এখানে কেউ কাউকে কোন দায়িত্ব বুঝিয়ে দিবে না। আপনি যদি মনে করেন আপনি কোন দায়িত্বটি প্রোফেশনালিজমের সাথে সম্পন্ন করতে পারবেন তাহলে সেই দায়িত্বটুকু নিজ থেকে বুঝে নিন। সেন্টারলি কাজ করাটা বেটার। ভিক্টিমদেরকে একটিবারের জন্য একা ভাবতে দিবেন না। আর যে ষড়যন্ত্র করা হল তাওহীদ এবং শরীয়াহ-র দাওয়াতের জন্য সেই পবিত্র কাজকে ত্যাগ করা যাবে না। এই ব্যাপারে কোন ছাড় নেই।

লেখকের ফেসবুক আইডি থেকে গৃহীত

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top