২০২০ সালে স্বাক্ষরিত আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আসবে বলে আশাবাদ পোষণ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চুক্তির অন্যতম উদ্যোক্তা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে এই তথাকথিত শান্তি চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে প্রকৃত শান্তি আনেইনি। বরং ফিলিস্তিন সঙ্কটকে উপেক্ষা করে আঞ্চলিক অস্থিরতাকে আরো গভীর করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো এবং সুদানের সাথে ইসরাইলের স্বাক্ষরিত এই চুক্তিগুলিকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দেয়া হলেও নিউইয়র্ক টাইমসের উপসাগরীয় ব্যুরো প্রধান ভিভিয়ান নেরিমের মতে, এগুলো মূলত কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সমঝোতা ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, ফিলিস্তিন সঙ্কটকে উপেক্ষা করেই এই চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়। যার ফলে অঞ্চলটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাচীনতম বিরোধের কোনো সমাধানই আসেনি।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এই চুক্তিগুলো গাজা, ইয়েমেন ও সুদানের মতো অঞ্চলে চলমান সহিংসতা থামাতে ব্যর্থ হয়েছে। গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন এবং ইরানের সাথে সাম্প্রতিক সঙ্ঘর্ষ, সেইসাথে লেবানন ও সিরিয়ায় সামরিক অভিযান, আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের বদলে আরো উসকে দিয়েছে।
জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মার্ক লিঞ্চও এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিন প্রশ্নকে পাশ কাটানো শুরু থেকেই একটি ভুল ছিল। তাই গাজায় চলমান পরিস্থিতি আশ্চর্যজনক নয়। বরং পূর্বাপর যুক্তিসঙ্গত। আজ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ক্ষীণ, পশ্চিমতীরে দখলদারিত্ব বেড়েছে এবং গাজা এখন ধ্বংস, অবরোধ ও দুর্ভিক্ষের এক ভয়াবহ বাস্তবতার মধ্যে আটকা পড়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরাইলি আগ্রাসনে সেখানে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন।
চুক্তিগুলোর সম্প্রসারণের চেষ্টা এখনো অব্যাহত আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আরো কয়েকটি দেশকে এতে অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী। কিন্তু প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ফিলিস্তিন সঙ্কট ও আঞ্চলিক যুদ্ধ উপেক্ষা করে এই সম্প্রসারণ প্রকৃত অর্থে কী অর্জন করতে পারবে?
শেষত, ইয়েমেন ও সুদানের চলমান যুদ্ধকে নিউইয়র্ক টাইমস এই বিষয়ে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখিয়েছে যে আব্রাহাম চুক্তি কেবল ভৌগোলিক কাগজে সই করা কিছু বোঝাপড়া হলেও তা মধ্যপ্রাচ্যে বাস্তব শান্তি কিংবা স্থিতিশীলতা আনতে ব্যর্থ হয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা




