রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে কুরস্ক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার অভিযোগ করেছে, যার ফলে আগুন লাগে এবং একটি সহায়ক ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার, ইউক্রেন যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতার ঘোষণার ৩৪তম বার্ষিকী উদযাপন করছিল।
রাশিয়ান কর্মকর্তাদের দাবি, হামলার ফলে কুরস্ক অঞ্চলের ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিন নম্বর চুল্লির কার্যক্ষমতা অর্ধেকে নেমে আসে। তবে কেন্দ্রের সংবাদ পরিষেবা জানিয়েছে, আগুন দ্রুত নিভিয়ে ফেলা হয়েছে, কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং বিকিরণের মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে দুটি চুল্লি বিদ্যুৎ উৎপাদন ছাড়াই চলছে, আরেকটির মেরামতকাজ চলছে।
কুরস্ক অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর আলেকজান্ডার খিনশটাইন হামলাটিকে “পারমাণবিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি” এবং “আন্তর্জাতিক কনভেনশন লঙ্ঘন” বলে অভিহিত করেছেন। এদিকে, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) নিশ্চিত করেছে যে কুরস্ক এনপিপির আশেপাশে বিকিরণের মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেন পূর্বেও দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে একে অপরকে হামলার জন্য অভিযুক্ত করেছে, যা ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক স্থাপনা এবং বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
রবিবার পশ্চিম রাশিয়ার লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের উস্ত-লুগা বন্দরে আগুন লাগে, যেখানে একটি জ্বালানি রপ্তানি টার্মিনাল অবস্থিত। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রায় ১০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার পর তাদের ধ্বংসাবশেষ থেকে এ আগুনের সূত্রপাত হয়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একদিনে তারা মোট ৯৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর দাবি, রাশিয়া একই সময়ে তাদের ভূখণ্ডে ৭২টি ড্রোন ও একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল, যার মধ্যে ৪৮টি ভূপাতিত বা আটকানো হয়েছে।
স্বাধীনতা দিবসে কিয়েভের স্বাধীনতা স্কয়ার থেকে ভিডিও বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন,
“আমরা এমন একটি ইউক্রেন গড়ে তুলছি যার নিরাপত্তা ও শান্তিতে বসবাসের ক্ষমতা থাকবে। আমাদের ভবিষ্যৎ কেবল আমাদের উপর নির্ভর করছে।”
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জেলেনস্কির সমালোচনা করে বলেন, তিনি “যে কোনও মূল্যে তাৎক্ষণিক বৈঠকের দাবি করছেন” এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া আলোচনার অগ্রগতি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। ল্যাভরভ অভিযোগ করেন, পশ্চিমা দেশগুলোই শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। শুক্রবার তিনি জানান, পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে কোনও বৈঠকের পরিকল্পনা নেই, যদিও ট্রাম্প প্রশাসন এ ধরনের বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করছে।
এদিকে, পূর্ব ইউক্রেনের সম্মুখ সারিতে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। রাশিয়া দাবি করেছে, তাদের বাহিনী ডোনেটস্ক অঞ্চলের দুটি গ্রাম দখল করেছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি রবিবার কিয়েভে পৌঁছে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন। জেলেনস্কির প্রধান সহযোগী আন্দ্রি ইয়েরমাক বলেন, “স্বাধীনতা দিবসে আমাদের বন্ধুদের সমর্থন অনুভব করা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কানাডা সর্বদা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।”
একই দিনে নরওয়ে প্রায় ৭ বিলিয়ন ক্রোনার (৬৯৫ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের নতুন সামরিক সহায়তা ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত।
সূত্র: আল জাজিরা




