ইমাম-খতিবদের হয়রানি বন্ধে হেফাজতে ইসলামের ‘বিশেষ সেল’ খোলার আহ্বান

মুফতি এনায়েতুল্লাহ

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অন্যায়ভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানের মসজিদের ইমাম-খতিবরা চাকরিচ্যুত হয়েছেন। সরকার পরিবর্তনের পরও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, এবার ইমাম-খতিবরা চাকরিচ্যুত হচ্ছেন মাঠের রাজনৈতিক বন্ধুদের দ্বারা। এমনিতে দেশের মসজিদগুলো পরিচালিত হয় কমিটি দ্বারা। সঙ্গত কারণে নতুন সরকারের আমলে কমিটি পরিবর্তন হওয়ার পর অনেক স্থানে নতুন কমিটি তাদের পছন্দের ইমাম-খতিবদের নিয়োগ দিয়েছেন।

এখানে একটি সরল সমীকরণ হলো, মসজিদের ইমাম-খতিবদের বড় অংশ কওমি মাদরাসাকেন্দ্রিক। ফলে তাদের অনেকেই সেবাবে সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না হলেও হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে কাজ করেন। হেফাজতের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন। কিন্তু অধিকাংশ ইমামদেরই বলার মতো রাজনৈতিক পরিচয় নেই, তারা সরাসরি রাজনীতি করেন না। আর কমিটি নতুন, সুতরাং তাকে বাদ দেওয়া হলে কেউ এর প্রতিবাদে সেভাবে এগিয়ে আসেন না।

যেহেতু নতুন কমিটিতে নানা মতের রাজনৈতিক নেতারা (আগে শুধু আওয়ামী লীগ ছিল) রয়েছেন, এর মাঝে কোনো কোনো কমিটির সদস্যের মিশনই থাকে ইমাম-খতিব পরিবর্তন করা, যেটা সাধারণ রাজনৈতিক নেতার থাকে না। ইতোমধ্যে বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে ইমাম-খতিব পরিবর্তনের বিষয়ে। সেই সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে নানা পরিকল্পনার কথা। তাই হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দের কাছে আবেদন, এ বিষয়ে একটি সেল খোলার।

যে সেলে কোনো মসজিদের ইমাম-খতিবকে অন্যায়ভাবে, শুধু শুধু রাজনৈতিক স্বার্থে বিদায় করা হলে অভিযোগ দেওয়ার সুযোগ থাকবে। সেলের সদস্যদের নাম, মোবাইল নম্বর সবার কাছে থাকবে। ওই সেল মসজিদ কমিটির সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সুরাহা করবে। তাহলে ইমাম-খতিবদের হয়রানি বন্ধ হবে। কেউ ‘মন চাইলো আর ইমাম বদলালাম’ এমন ইচ্ছা বাস্তবায়ন করতে পারবে না। ইমামদের ‘ঘাড় ধাক্কা’ দিয়ে বের করার হুমকি দেওয়ারও সাহস পাবে না। আশা করি, হেফাজত নেতৃবৃন্দ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাববেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top