ইসরাইলের বাজান গ্রুপ বুধবার জানিয়েছে, হাইফা বে রিফাইনারি এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাথমিকভাবে ১৫০ থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। ইসরাইলি দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
তেল আবিব স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেয়া বিবৃতিতে বাজান গ্রুপ জানায়, ক্ষয়ক্ষতি আংশিক মেরামতের জন্য তারা ইতিমধ্যেই ১৬০ মিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৪৮ মিলিয়ন ডলার) অগ্রিম অর্থ প্রদান করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ব্যাখ্যা করে, এই অর্থপ্রদানটি মোট প্রত্যক্ষ ক্ষতির অংশ এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় আরও অর্থ প্রদানের প্রয়োজন হতে পারে। এজন্য তারা একটি ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের কাজ করছে।
উল্লেখযোগ্য যে এই হামলা রিফাইনারির বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল, যা কারখানার জন্য বাষ্প এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাজান গ্রুপ জানায়, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো প্রাথমিক ও অনিশ্চিত এবং বর্তমান তথ্য ও কর্মপরিকল্পনার ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
কোম্পানিটি আরো জানায়, আকস্মিক বাহ্যিক বন্ধের পরে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা জটিল একটি প্রক্রিয়া। চূড়ান্ত খরচ এবং ক্ষতিপূরণের পরিমাণ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
এই হামলায় তিনজন কর্মচারী নিহত হয়েছেন। আগুনের ফলে ভবনের একটি অংশ ধসে পড়ে এবং তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। জানা গেছে, তারা সবচেয়ে নিরাপদ বলে বিবেচিত অভ্যন্তরীণ কক্ষে অবস্থান করছিলেন। কর্তৃপক্ষের ধারণা অনুযায়ী, ধোঁয়া ও অতিরিক্ত তাপের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ইসরাইলি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাজান গ্রুপকে সাইটের বেশ কয়েকটি ইউনিটের জন্য বিল্ডিং পারমিট ছাড় দিয়েছে।
তবে হাইফার মেয়র ইয়োনা ইয়াহাভ এই ছাড় প্রদানের বিরোধিতা করে বলেন, ‘বাজান হাইফার বাসিন্দাদের জন্য একটি স্পষ্ট এবং সরাসরি বিপদ ডেকে আনে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে এই সুবিধাটি স্থানান্তরিত করতে হবে। বাসিন্দারা বেপরোয়া জনসাধারণের সিদ্ধান্তের কাছে বাধ্য থাকবে না।’
প্রসঙ্গত, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে সর্বশেষ সামরিক সঙ্ঘর্ষ গত জুনে ১২ দিন স্থায়ী হয়েছিল।
সূত্র : আল জাজিরা




