ইসরাইলি যুদ্ধবিমান

ইরানের আকাশে জ্বালানি ফুরিয়ে যায় ইসরাইলি যুদ্ধবিমানের

ইরানের রাজধানী তেহরানের আকাশে এক উত্তেজনাকর মুহূর্তে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে একটি ইসরাইলি যুদ্ধবিমান। ইরানের আকাশসীমার গভীরে প্রবেশ করার পর ইসরাইলি বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের জ্বালানি ট্যাংকে ত্রুটি দেখা দেয়। সামনে তখন দুটি পথ খোলা ছিল- জরুরি অবতরণ অথবা মাঝ আকাশে রিফুয়েলিং। সঙ্কটময় সেই মুহূর্তে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয় পাইলটকে।

শনিবার (১৩ জুলাই) ইসরাইলের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘চ্যানেল ১২’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, তেহরানের দিকে অগ্রসরমান অবস্থায় ইসরাইলি বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান আচমকা জ্বালানি সঙ্কটে পড়ে। সাথে সাথেই বিষয়টি পাইলট নিয়ন্ত্রণকক্ষে জানান।

মিশন চলাকালে বিমানটির সাথে কোনো রিফুয়েলিং প্লেন বা আকাশভিত্তিক জ্বালানিসরবরাহকারী বিমান ছিল না। ফলে দ্রুত একটি রিফুয়েলিং প্লেন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পাশাপাশি বিকল্প পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছিল—যদি রিফুয়েলিং প্লেন সময়মতো না পৌঁছায়, তাহলে যুদ্ধবিমানটিকে ইরানের প্রতিবেশী কোনো দেশে জরুরি অবতরণ করাতে হবে। তবে ওই প্রতিবেশী দেশের নাম প্রকাশ করেনি প্রতিবেদনে।

শেষ পর্যন্ত রিফুয়েলিং প্লেন সঠিক সময়ে এসে পৌঁছায় এবং সফলভাবে জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটিকে বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়। এরপর পুরো মিশন সফলভাবে সম্পন্ন হয় এবং আর কোনো কারিগরি সমস্যা দেখা দেয়নি বলে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, ইরানের ওপর আকস্মিক হামলার ঠিক আগে ১৩ জুন ইসরাইলি বিমানবাহিনীর প্রধান টোমার বার একটি অভ্যন্তরীণ সভায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে যুদ্ধের প্রথম ৭২ ঘণ্টায় ইসরাইলের অন্তত ১০টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হতে পারে। তবে বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে চ্যানেল ১২ জানায়।

অন্যদিকে, ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছিল, তারা দু’টি ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে এবং একজন পাইলটকে আটক করেছে। তবে ইসরাইলের আরবি ভাষার মুখপাত্র অভিচাই আদরায়ি এই দাবি নাকচ করে বলেন, এটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন।

ইসরাইল দাবি করেছে, তারা ইরানের সামরিক কমান্ড কাঠামো, পরমাণু বিজ্ঞানী, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান ইসরাইল ধ্বংসের পরিকল্পনায় অগ্রসর হচ্ছিল এবং পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল।

তবে ইরান সবসময়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তেহরান জানায়, তারা শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। যদিও আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশে সীমাবদ্ধতা ও উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ইসরাইলের হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত হানে ইরান। তারা ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে ৫০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রায় ১,১০০ ড্রোন নিক্ষেপ করে। এসব হামলায় ২৮ জন নিহত হন এবং ৩ হাজারের বেশি মানুষ আহত হন বলে জানায় ইসরাইলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হামলাগুলোর মধ্যে ৩৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ও একটি ড্রোন জনবসতিতে সরাসরি আঘাত হানে। এর ফলে ২,৩০৫টি বাড়ি, দুটি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ১৩ হাজারেরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top