জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কাউন্সিল সম্প্রতি এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরাইলি আগ্রাসন থেকে মুনাফা করেছে বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। ফিলিস্তিনে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসঙ্ঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজের তৈরি করা এই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে উইন্ডোজ সেন্ট্রাল জানায়, ইসরাইলের সামরিক কার্যক্রমে প্রযুক্তি সরবরাহ এবং অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মাইক্রোসফট ও অন্যান্য বড় প্রযুক্তি কোম্পানি বিপুল লাভ করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মাইক্রোসফট ১৯৯১ সাল থেকে ইসরাইলে সক্রিয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় কেন্দ্র সেখানে অবস্থিত। মাইক্রোসফটের প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে ইসরাইলের কারাগার, পুলিশ বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল এবং বসতিগুলোতে। ২০০৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে তার বেসামরিক প্রযুক্তির সংযুক্তিকরণ শুরু করে। এর পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তিতে ইসরাইলি স্টার্টআপ অধিগ্রহণ করে এসেছে।
জাতিসঙ্ঘের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ইসরাইলের বর্ণবাদী, সামরিক ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থেকে উৎপন্ন ডেটার পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে ক্লাউড স্টোরেজ ও কম্পিউটিংয়ের উপর নির্ভরতা বেড়েছে। এর ফলে মাইক্রোসফটসহ বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ক্লাউড অবকাঠামোর চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২১ সালে ইসরাইল সরকার প্রজেক্ট নিম্বাস নামে গুগল ও অ্যামাজনের সাথে ১.২ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার অর্থায়ন করা হয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট থেকে। মাইক্রোসফটও ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে বিভিন্ন প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে বলে স্বীকার করেছে। অবশ্য কোম্পানিটি দাবি করে যে তাদের লেনদেনগুলো ছিল সাধারণ বাণিজ্যিক চুক্তির অংশ এবং তাদের প্রযুক্তি মানবাধিকার লঙ্ঘনে ব্যবহৃত হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ তারা পায়নি।
উইন্ডোজ সেন্ট্রাল জানায়, ইসরাইলের সামরিক ক্লাউড অবকাঠামো অতিরিক্ত ডেটা চাপে পড়লে মাইক্রোসফটের অ্যাজুরে প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইসরাইলের সাথে প্রযুক্তি চুক্তির মাধ্যমে এই কোম্পানিগুলোর সার্ভার ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তদারকি দুর্বল এবং আইনগত জবাবদিহিতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মাইক্রোসফটের কর্মীরা ‘না টু অ্যাজ্যুর ফর অ্যাপার্টহাইড’ নামে একটি অভ্যন্তরীণ চাপ গ্রুপ গঠন করে, যারা মাইক্রোসফটের ইসরাইলভিত্তিক ক্লাউড চুক্তি বাতিলের দাবি জানায় এবং কোম্পানির নীতিমালার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে।
নিবন্ধটি মাইক্রোসফটের অবস্থানের দ্বৈততা তুলে ধরে জানায়, গাজা ও ইউক্রেন উভয় ক্ষেত্রেই বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করলেও মাইক্রোসফট ইউক্রেনের ক্ষেত্রে রাশিয়ায় তৎক্ষণাৎ বিক্রি বন্ধ করে এবং মানবিক সহায়তায় ৩৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি প্রতিশ্রুতি দেয়। অথচ গাজার প্রসঙ্গে তারা এমন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
জাতিসঙ্ঘের এই প্রতিবেদন গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সূত্র : আল জাজিরা




