শায়খ ইবনুল কালাম
এক.
মুসলিমদের পূজায় যাওয়া জায়েজ নেই। এ ব্যাপারে কোনো ধরনের তাবিলের সুযোগ নেই। ইসলামপন্থী দাবি করে অনৈসলামিক কাজ না করারই ঠিক।
দুই.
ইসলামপন্থীদের মধ্যে এখন ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা আছে কেবল জামায়াতের। এছাড়া অন্য যেসব ইসলামপন্থী দল আছে, তাদের এই টার্মে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ নেই।
যাদের ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ নেই, তাদের জন্য ভোট রাজনীতির দাবিতে পূজায় যাওয়ার কোনো দরকারই নেই।
ভারতে বিজেপী কেবল হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি করেই তিন টার্মে ক্ষমতা চালাচ্ছে। অথচ সেখানে মুসলমানরা মোট জনসংখ্যার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ।
পক্ষান্তরে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায় মোট জনসংখ্যার তিন কী চার শতাংশ। তাহলে আপনি যদি ক্ষমতায় যেতেও চান, কেবল মুসলিমদেরকে হাতে রাখতে পারলেও সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।
তাহলে যেখানে আপনার ধর্মীয় আইডোলজি আপনাকে যাওয়ার অনুমতি দেয় না, রাজনৈতিক বাস্তবতাও যাওয়াকে আবশ্যক বলে না, সেখানে আপনার যাওয়ার দরকারই বা কী?
এতে বরং ক্ষতিই হবে। একদিকে, আপনার সমমনারা ভাববে, এরা ভোটের জন্য নিজের আদর্শকেও বিসর্জন দিতে দ্বিধা করে না। তারা আপনার প্রতি বীতশ্রদ্ধ হবে। তার মানে আপনার সমমনা কিছু ভোটার হারালেন।
আবার আপনার এই মুদাহানাত পরবর্তীদের জন্য অন্যায়ের পথকে মসৃণ করবে। এতে আদর্শবিরোধী কাজ প্রচলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যার কারণে গুনাহের ভাগ আপনাকেও বহন করতে হবে।
তিন.
জামায়াত ক্ষমতার যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এই টার্মে না হলেও আগামী টার্মে যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। সেজন্য তাদেরকে সংখ্যালঘুদের কাছে টানতে হবে। কিন্তু কথা হলো, সংখ্যালঘুদের কাছে টানার জন্য তো আদর্শকে বিসর্জন দেয়ার দরকার নেই।
আপনাদের হিন্দু সেল আছে। তাদের মাধ্যমে আপাতত কাজটা সারতে পারেন। এছাড়া কাটে টানার আরো তো পথ আছে। যেমন জামায়াত আমির তার প্রতিষ্ঠানে অনেক সংখ্যালঘু কর্মীদেরকে কাজ দিয়েছে। বিভিন্ন সময় নানা বিধর্মীকে তারা সহায়তা করেছে। ইত্যকার নানামাত্রিক উদ্যোগেও তো তাদের কাছে টানা যয়।
তাহলে আদর্শ বিসর্জন দেয়া বা শরীয়ত বিরোধী কাজ করার দরকারই বা কী। সবচেয়ে ভালো হয়, এখন যেহেতু জামায়াত লিবারেল রাজনীতিই করছে, তাহলে তাদের ইসলাম শব্দটি বাদ দিলেই তো ভালো হয়। বাংলাদেশে দলীয় নাম থেকে ধর্মীয় বিশেষণ বাদ দেয়ার নজির তো আওয়ামী রেখে গেছে।
চার.
যারা লিবারেল রাজনীতি করতে চান, তারা ইসলামকে ব্যবহার করবেন না। সর্বোচ্চ ইশতেহারে বলতে পারেন, আমরা ইসলামের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করব। বলার দরকার নেই যে খেলাফত কায়েম করব। বর্তমান বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে -যেমনটি মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন- খেলাফত কায়েমের সুযোগ নেই। সেজন্য অনেক সময় ও মেহনত প্রয়োজন। তাই আপনারা খেলাফতের দাবি না করে ইসলামের অনুকূল পরিবেশ কায়েম করবেন, বললেই রাজনীতির জন্য সুবিধা হবে।




