সৈয়দ শামসুল হুদা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এর বর্তমান ৩ শীর্ষনেতা যথা- দলের আমীর জনাব ডাঃ শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জনাব গোলাম পরওয়ার ও সিনিয়র নেতা জনাব ডাঃ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের তাদের ইসলামী জ্ঞান অর্জনের সীমা- সংগঠনের সীমিত সিলেবাসের বাইরে বেশি কিছু বলে জানা যায় না। শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী সাহেবদের ইলমের যে গভীরতা ছিল এমনটা এই তিন জনের একজনেরও নেই। উনারা এক ধরনের রাজনৈতিক স্যাকুলারিজমে তথা ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করেন। এটা উনাদের প্রতিদিনের বক্তব্যে প্রকাশ পায়।
অপরদিকে বিএনপির জনাব তারেক রহমান, মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রুহুল কবির রিজভী এরাও রাজনৈতিক স্যাকুলার দর্শনে বিশ্বাসী। পোশাকি পার্থক্য ছাড়া গভীর তেমন কোনো পার্থক্য নেই।
একটি বৃহৎ ইসলামী সংগঠনের নেতৃত্ব যে কোনো ধারার ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত আলেমদের হাতে না থাকা সেই দলের রাজনৈতিক পর্যায়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দুর্বলতা প্রকাশ করে। যে দল তাদের সাংগঠনিক নেতৃত্ব ইসলামের গভীর জ্ঞানে সুদক্ষ ব্যক্তির হাতে তুলে দিতে অক্ষম হয়, তারা গোটা দেশে কুরআনি শাসন প্রতিষ্ঠায় কতটা সক্ষম হবেন সেই বিষয়ে কিছুটা প্রশ্ন থেকেই যায়।
বর্তমান জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব ধর্মীয় জ্ঞানে পরিপক্কতার চেয়ে সাংগঠনিক দক্ষতায় অগ্রগামী এটা অবশ্যই স্বীকার করি। তবে বৃহৎ একটি ইসলামী দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি কোরআন, সুন্নাহ, ফিকাহ তাফসীর ইত্যাদি শাস্ত্রীয় জ্ঞানে দুর্বলতা ধারণ করেন তাহলে সেটা ইসলামের জন্য ক্ষতিকর হওয়ার ক্ষেত্রে আশঙ্কামুক্ত নয়। ক্যাডার ভিত্তিক সংগঠনের কারণে হয়তোবা এটা সমস্যা হিসেবে প্রকাশ পাবে না, কিন্তু ধর্মীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে এটা বড় ধরনের দুর্বলতা। সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং পলিসি নির্ধারণ বিষয়ে ইসলামী জ্ঞানের পরিপূর্ণতা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের থাকা উচিত।
বর্তমান নেতৃত্বের সাথে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য আছে বলে মনে করি না। উনাদের কথা-বার্তা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ সেদিকেই কিছুটা ইঙ্গিত করে। এটা ঠিক যে, উনারা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের তুলনায় ইসলামী জ্ঞান বেশি রাখেন। কিন্তু একটি এত বড় ইসলামী দলের শীর্ষ নেতা হিসেবে যতটুকু ইসলামিক জ্ঞান থাকা দরকার ততটুকু জ্ঞান আছে বলে মনে করি না। উনাদের বক্তব্যে ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী দলের নেতৃত্বের মতই মনে হয়। এর বেশি কিছু নয়।




