বাংলাদেশে ইসলাম

ইসলামী সভ্যতার পতন ও মডার্নিটির উদ্ভব

খালিদ মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ

পশ্চিমা সভ্যতা একমাত্র সভ্যতা যারা নিজেদের ইউরোপীয় (European) পরিচয়কে লুকিয়ে “আধুনিক সভ্যতা” বা “Modern civilization” বলে, যেন শুধুমাত্র সেই সার্বজনীন।

আমরা দেখি, আগে থেকে জনবসতি থাকা সত্বেও আমেরিকার “আবিষ্কারক” হলো ক্রিস্টোফার কলম্বাস। পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশ অংশগ্রহণ না করা সত্বেও দুইটা জাতিগত মহাযুদ্ধ হয়ে গেল “বিশ্বযুদ্ধ”। পশ্চিমা দার্শনিকরা শুধু “দার্শনিক” আর বাকিরা ভারতীয় দার্শনিক, চীনা দার্শনিক। তাদের ধারণা, ট্র্যাডিশন মানে পশ্চাৎপদতা। অথচ নিজেরাই গ্রীক ট্রেডিশন ছাড়া এক পা এগোতে পারে না। এই হচ্ছে মডার্নিটি।

আধুনিকতার মোড়কে পশ্চিমা সভ্যতা মূলত—বস্তুবাদী, দাম্ভিক ও বর্ণবাদী। এ সভ্যতা মুনাফা কেন্দ্রিক। এখানে মানুষ জগতের “মালিক”। সে সবকিছু বদলাতে পারে। যা ইচ্ছা তাই করতে পারে।

এসবের বিপরীতে ইসলাম মানুষকে আল্লাহর খলিফা হিসেবে মনোনীত করে, যার মৌলিক দায়িত্ব হলো আল্লাহর ইচ্ছার বাস্তবায়ন।

কিন্তু বর্তমান মুসলিম উম্মাহের অবস্থা রাসূল ﷺ এর ভবিষ্যৎবাণীর প্রতিফলন—অচিরেই এমন সময় আসবে, যখন কাফির জাতি তোমাদের উপর এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়বে, যেমনিভাবে ক্ষুধার্তেরা থালার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

ইবনে খালদুন বলেন—কোন সভ্যতার পতনের পর পতিত সভ্যতা নিজের ধ্বংসকারীর সংস্কৃতি, চিন্তা, ফ্যাশন, সবকিছু নির্লজ্জভাবে আত্মস্থ করে ফেলে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে মুসলিম যুবকদের পশ্চিমের প্রতি মুগ্ধতা এই প্রজন্মের আইডিওলজিক্যাল দাসত্ত্বের উদাহরণ।

এ থেকে উত্তরনের জন্য ও ইসলামী শাসনের জন্য প্রয়োজন তারবিয়াহ—যার জন্য পশ্চিম ইউরোপে সাম্রাজ্য বিস্তার স্থগিত করেছিলেন তারিক বিন জিয়া। ব্যক্তিকে ইলম ও আখলাকে ইসলামের ধারক ও বাহকে পরিণত করাই তারবিয়াহ। তারবিয়াহ এর অভাবে বিশাল সাম্রাজ্য বিস্তারের পর মুসলিম ভূখণ্ডগুলো দুনিয়ামুখী শাসকসহ নানামুখী ফিতনায় পতিত হয়েছে।

নতুন সভ্যতা বিনির্মাণের জন্য তাজদীদ (নবায়ন) আবশ্যক, সংস্কার (Reformation) নয়। কুরআন-সুন্নাহ এর মূলনীতি সামনে রেখে প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপটে ইসলামী সমাধান ও কর্মপদ্ধতি হাজির করার নাম তাজদীদ। ইতিহাসে এমন বহু মুজাদ্দিদ এসেছেন যারা তাজদীদের মাধ্যমে উম্মাহকে পথ দেখিয়েছেন।

ইবনে খালদুনের মতে, যেখানে একটা শাসন ব্যবস্থা মাত্র তিন প্রজন্ম বা ১২০ বছর টিকে থাকে, সেখানে ইসলাম একমাত্র সভ্যতা যা ১৪০০ বছর ধরে টিকে আছে। ইসলাম কখনো পরাজিত হয়ে অন্য সভ্যতাকে গ্রহণ করেনি, বরং অন্যান্য সভ্যতাই ইসলামের আদর্শে বিকশিত হয়েছে।

সাময়িক বিজয়ের পর মুহুর্তেই পশ্চিমা সভ্যতা এখন পতনের দ্বারপ্রান্তে। এখনই সময় আগামীর সভ্যতার জন্য নিজেদের গঠন করার। দরকার নতুন প্রজন্মের গাজ্জালী, ইবনে তাইমিয়া—যারা সভ্যতা পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top