বর্তমান সময়ে হোটেল ও রেস্টুরেন্টে বুফে খাবারের প্রচলন ব্যাপক। এ ধরনের খাবারের নিয়ম অনুযায়ী ক্রেতা নির্দিষ্ট মূল্যে একটি বড় পাত্র থেকে ইচ্ছামতো খাবার খেতে পারে। এখানে মূল্য নির্দিষ্ট হলেও খাবারের ধরন ও পরিমাণ প্রাথমিকভাবে অনির্দিষ্ট থাকে।
ইসলামী আইন অনুযায়ী চুক্তি করার সময় যদি পণ্য অস্পষ্ট থাকে, তা সাধারণত ধোঁকা হিসেবে গণ্য হয়। হাদিসে উল্লেখ আছে যে প্রতারণামূলক লেনদেন ও ধোঁকা করা নিষিদ্ধ। তবে ফুকাহায়ে কিরাম সাধারণ ধোঁকাকে সামাজিক প্রেক্ষাপটে ক্ষমাযোগ্য মনে করেছেন, বিশেষ করে যেখানে প্রচলন রয়েছে এবং কোনো বিবাদ সৃষ্টি হয় না। আল্লামা দুসুকি উল্লেখ করেছেন, “সাধারণ ধোঁকা হলো যতটুকু পরিমাণকে মানুষ ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে।”
বুফে খাবারের মাসআলা নিকটতমভাবে তুলনীয় গণ-গোসলখানার ভাড়া বা স্তন্যদানকারিণীর জন্য খাবার ও পোশাক প্রদানের সাথে। এই ক্ষেত্রে খাবার ও পোশাকের পরিমাণ নির্দিষ্ট না থাকলেও ফুকাহায়ে কিরাম তা জায়েজ বলেছেন। অর্থাৎ সামাজিক প্রচলন ও সামান্য ধোঁকা থাকায় লেনদেন বৈধ।
মূল সিদ্ধান্ত হিসেবে বলা যায়, বুফে খাবারের ক্ষেত্রে যে অস্পষ্টতা রয়েছে, তা সমাজে প্রচলিত এবং কোনো বিবাদ নেই। তাই ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বুফে খাওয়া বৈধ। একমাত্র শর্ত হলো, খাওয়ার সময়ই ক্রেতা মালিকানা অর্জন করবে; যেখানে খাবার পাত্রে ফিরিয়ে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে, সেখানে মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হবে না।
সামাজিক প্রচলন ও বৈপরীত্যের অনুপস্থিতি থাকায় বুফে খাওয়া ইসলামী আইন অনুসারে জায়েজ এবং এতে কোনো নিষিদ্ধ ধোঁকার অভিযোগ নেই।
ফিকহুল বুয়ু থেকে সংগৃহীত ও ঈষৎ পরিবর্তিত




