ইসলাম তরবারির মাধ্যমে প্রচার হয়নি, এ বিষয়ে সকলে একমত। কারণ, এ ধরণের কথা মূলত বিধর্মীরা বলে থাকে। কিন্তু ইসলাম প্রচার হয়েছে জিহা/দ, দাওয়াত ও আখলাকের মাধ্যমে, এটাও চির সত্য কথা। ইসলাম শুধু জিহা/দের মাধ্যমেই প্রচার হয়নি, আবার শুধু দাওয়াতের মাধ্যমেই নয়।
এখানে একটি কথা বলে রাখি, যারা বলে, ইসলাম তরবারির মাধ্যমে প্রচার হয়নি, তাদের কথা দ্বারা এটা উদ্দেশ্য নয় যে ইসলাম জিহা/দ দ্বারা প্রচার হয়নি। বরং ইসলাম জিহা/দ, দাওয়াত, আখলাক সবকিছুর মাধ্যমেই প্রচার হয়েছে। তরবারি আর জিহাদ, দুই শব্দের মাঝে পার্থক্য আছে। তরবারি ডাকাতির ক্ষেত্রেও প্রয়োজন পড়ে, আবার জিহা/দের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন পড়ে। ইসলাম তরবারির মাধ্যমে ছড়ায়নি আর ইসলাম জিহাদের মাধ্যমে ছড়ায়নি, দু’কথার মাঝে আসমান- জমিনের পার্থক্য।
হজরাতুল উস্তাজ আল্লামা সাঈদ আহমাদ পালনপুরি রহ. এখানে চমৎকার কথা বলেছেন, বিভিন্ন হাদিস থেকে বুঝে আসে, আল্লাহ হাসেন এমন ব্যক্তির থেকে যাকে জোর করে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। এ হাদিসের ব্যাখ্যায় শাহ ওলি উল্লাহ জিহাদের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বিষয়টি এনেছেন। যেমন, কোনো অবুঝ বালক তিতা ওষুধ খেতে না চাইলে তাকে জোর করে খাওয়ানো কোনো দোষের নয়, ঠিক তেমনি জিহা/দের মাধ্যমে মুসলিম হয়ে জান্নাতের অধিকারী হলেও তা দোষের কোনো বিষয় না। জিহাদ ফরজ হওয়ার এটাই মূল কারণ, আল্লাহর দ্বীন প্রচার ও দ্বীন বিজয় করা। (বিস্তারিত জানতে পড়ুন: রহমাতুল্লাহিল ওয়াসিআ: ৫/ ৩৭৪- ৩৭৬)
আমরা ঐক্য চাই। কিন্তু একটি বাস্তব কথা হলো, জিহাদ করেন বা না করেন, সেট আলাদা বিষয়। কিন্তু আকীদার প্রশ্নে কোনো আপোষ হয় না। ব্যক্তি হোক বা কোনো দল; ইসলামের স্বার্থই আগে দেখতে হবে। ব্যক্তির কারণে যেমন দলকে দোষারোপ করা যায় না, কোনো দলের কারণেও তেমনি ইসলামকে নিন্দা করা যায় না। যে কথা ভিন্ন ঘরানার কেউ বললে দোষের, তা আমার প্রিয় কেউ বললেও দোষই হবে। ইসলাম পক্ষপাতিত্বকে সমর্থন করে না।
মোটকথা, আকীদার শুদ্ধতা ছাড়া কখনোই ঐক্য সম্ভব না। আর তা বাংলাদেশে হয়তবা কোনো দিন সম্ভব হবে না। আল্লাহ হেফাজত করুন আমাদেরকে! আমিন!
লেখকের ফেসবুক পোস্ট থেকে গৃহীত




