ইস্কন, উগ্র হিন্দু চক্র, সংখ্যালঘু,

উগ্র হিন্দু চক্রের অপরাধে প্রশাসনের নীরবতা : বিচারহীনতায় বাড়ছে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা

ইবনুল কালাম

এক.
গত কয়েক বছর ধরে হিন্দুদের একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র মুসলিম নারীদের ইজ্জত হরণ করছে। এদের অধিকাংশই উগ্রবাদী হিন্দু সংগঠন ইস্কনের সদস্য। এ নিয়ে গত বছর সাংবাদিক ইলিয়াস একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল। আলেমদের অনেকেই তখন এ নিয়ে বেশ লেখালেখি করেন। দারুল ইলম থেকে ‘সেইভ আওর সিস্টার্স’ শিরোনামে একটি প্রামাণ্য বইও বের হয়। কিন্তু প্রশাসন এই বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। পরে নতুন ইস্যুর ভিড়ে তা গৌণ হয়ে পড়ে। এদিকে, ভিকটিম পরিবার সম্মান বাঁচাতে এ নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্চ করে না। তাই চক্রটি ক্রমেই উগ্র হয়ে পড়ে।
দুই.
বর্তমানে এই চক্রেরই বিভিন্ন সদস্যের অসহনীয় কীর্তিকলাপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের সুফল হিসেবে মানুষ তার প্রতিবাদের সুযোগ পাচ্ছে। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে, এক্ষেত্রে প্রশাসন নিরপেক্ষ আচরণ করছে না। তারা চক্রটিকে সেইফ এক্সিট দেয়ার জন্য নানা ছলচাতুরির সুযোগ নিচ্ছে। কিন্তু তারা কেন এমন ছলনার আশ্রয় নিচ্ছে, বোধগম্য নয়।
প্রশাসন হয়তো ভাবছে, এই মুহূর্তে চক্রটিকে সেইফ এক্সিট দেয়া দরকার। নয়তো দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে। বহির্বিশ্বে দেশে জ-ঙ্গি/বা.দের উত্থান ঘটেছে বলে বদনাম হবে। কিন্তু তাদের এই ভাবনা ঠিক নয়। এই চক্রটি হলো ক্যান্সারের মতো। এটি যতদ্রুত সম্ভব নিয়ন্ত্রণ করে ফেলতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে জনতাকে আশ্বস্ত করতে হবে। একইসাথে দুষ্টুজনের মনেও ভয় ধরিয়ে দিতে হবে। অল্প কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারলেই সমস্যার সমাধান নিয়ন্ত্রণে এসে যাবে। কিন্তু তা না করে যদি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বিবেচনা করা হয়, তাহলে এতে বিরাট আকারের বিস্ফোরণ ঘটবে। কারণ, মানুষের ধৈর্যের একটা সীমা আছে। যখন ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে যায়, তখন অঘটনই ঘটিয়ে থাকে।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, সুশীল সমাজ ও সংখ্যালঘুরা এসব অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীদেরই পক্ষ নিচ্ছে। নানা বয়ান তৈরি করে তাদেরকে সেইফ এক্সিট দিচ্ছে। যাতে বিষয়টি আরো ঘোলাটে হয়ে যায়। কারণ, যখন সুশীল ও সংখ্যালঘুরা অপরাধীর পক্ষ নেয়, তখন স্বভাবতই সচেতন নাগরিকরা ভিকটিমের পক্ষ গ্রহণ করবে। এভাবেই তো দুটি পক্ষ হয়ে যায়। তখন অপরাধের দিকটি গৌণ হয়ে তা সাম্প্রদায়িক বিভাজনের দিকে গড়ায়।
সেজন্য প্রশাসন যদি প্রথমেই এটিকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাহলে এই ধরনের বিভাজনের সুযোগই থাকবে না। এতেই বরং দেশের জন্য কল্যাণ হবে।
তিন.
দেশের সংখ্যালঘু সংগঠন ও তার নেতাদের উপর এসব ক্ষেত্রে দায় বর্তায়। কারণ, তারা এ ধরনের ক্ষেত্রে মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকে। কোনো ধরনের বিবৃতি দেয়ার প্রয়োজন বোধ করে না। অথচ সাম্প্রদায়িক সঙ্ঘাত এড়ানোর জন্য তাদের বিবৃতি এই মুহূর্তে অনেক প্রয়োজন। তারা যদি এসব অপরাধকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে, তাহলে সরকারের জন্যও পদক্ষেপ নিতে সহজ হয়। বিভাজনের পথও রুদ্ধ হয়। কিন্তু তারা এসব ক্ষেত্রে বিবৃতি দেন না।
পক্ষান্তরে ইসলামপন্থী নেতারা বরাবরই এসব বিষয়ে সোচ্চার থাকেন। তারা বিবৃতি দিয়ে জনগণকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন। এটি তাদের উদারতা ও নৈতিকতার পরিচয়। যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। কিন্তু সমস্যা হলো, কখনো কখনো তাদের এই ‘সুশীলতার’ কারণে বিচার আর হয়ে ওঠে না। আর অপরাধের বিচার না হতে হতে একটা বিচারহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়ে যাচ্ছে। এটি সমাজের জন্য ক্ষতিকর।
চার.
প্রশাসনের উচিৎ অপরাধকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা। অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শান্তি প্রদান করা। এতে দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকবে। আর নয়তো অপরাধীরা বিচারহীনতার কারণে বেপরোয়া হয়ে উঠছে। আর নাগরিকরাও ধৈর্যের সীমা ভেঙ্গে যাওয়ায় কঠোর হয়ে যাচ্ছে। এতে দেশে বিশৃঙ্খলাই তৈরি হচ্ছে। সেজন্য যদি অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তাহলে এর জন্য প্রশাসনই সর্বাগ্রে দায়ী।
লেখক : সাংবাদিক ও বিশ্লেষক

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top