পাকিস্তান, ভারতীয় ন্যারেটিভ, একাত্তর,

একাত্তর বিষয়ে ভারতীয় ন্যারেটিভের পোস্টমর্টেম

দিপ্র হাসান
স্বাধীন বাংলাদেশ ভারতের দান। এই ন্যারেটিভ ভারতের। এই ন্যারেটিভ আওয়ামী লীগের। এই ন্যারেটিভ কালচারাল সন্ত্রাসের লাল ইশতেহার। অথচ আসল ন্যারেটিভ হল, পাকিস্তান আমরা আনছি। মুসলিম লীগ আমরা তৈরি করছি। পাকিস্তানের দুই স্বৈরাচার আইয়ুব ইয়াহিয়ার আমল বাদ দিলে পাকিস্তানের বেশিরভাগ সময় শাসক ছিলাম আমরা। সুতরাং পাকিস্তান আমল আমাদের পরাধীনতার কাল নয়। আমরাও ছিলাম শাসক। পূর্ব পাকিস্তান বঞ্চিত ছিল যেভাবে এখন ঢাকার তুলনায় দেশের অন্যান্য এলাকা বঞ্চিত। এই বঞ্চনা পৃথিবীর সব তৃতীয় বিশ্বের দেশেই আছে।

এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন ছিল স্বাধীকারের। স্বাধীনতার নয়। এই বঞ্চনা ছিল পাকিস্তানি দুই স্বৈরাচারের সৃষ্ট। ৭১ এ আমরা স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করছিলাম। স্বৈরাচার আমাদের বিরুদ্ধে সেনা লেলিয়ে দিয়েছিল। যেভাবে আমাদের উপর স্বৈরাচার হাসিনা তার র‍্যাব পুলিশ বিজিবি ও সেনা লেলিয়ে দিয়েছিল।

পাকিস্তানি সময়ের ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায় হল, ১৯৫৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের নেতা শেখ মুজিব এবং তার সাঙ্গপাঙ্গদের আক্রমণে আহত ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলীর ২৬ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ। অর্থাৎ শাহেদ আলীর মূল খু*নী শেখ মুজিব এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা।

শেখ মুজিবকে দিয়ে এই কাজটি করায় তৎকালীন পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা। আর এই ঘটনাটিকে কাজে লাগিয়ে ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল করে স্বৈরাচার আইয়ুব খান। এই কারণে খু*নী হয়েও শেখ মুজিব এই হ*ত্যার দায় থেকে মুক্ত থেকে যান।

পাকিস্তানকে স্বৈরশাসনের দিকে ঠেলে দিয়ে বাংলার মানুষকে নির্যাতিত করার মূল দায়টাও তার। তার ক্ষমতালিপ্সায় পাকিস্তান ভেঙে গেলেও বাংলার মানুষের মুক্তি আসেনি। দেখা গেল, আইয়ুব ইয়াহিয়ার চেয়েও বড় স্বৈরাচার এবং অত্যাচারী হয়ে ওঠে মুজিব।

মুজিবকে শেষ পর্যন্ত বাংলার মানুষরাই খু*ন করতে বাধ্য হয়। অথচ ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলীরে হ*ত্যার কারণে তখনই যদি তাকে ফাঁ*সী দেয়া হইত তাইলে আমরা ৭১ এর এত বড় গণহ*ত্যার মুখোমুখি হইতাম না।

মুজিবের পর তার মেয়ে হাসিনাও আমাদেরকে তারচেয়ে বড় স্বৈরশাসন উপহার দিছে। তারপরও এদেশের বিরাট এক্টা অংশ তাদের পুজা করে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নাই। পৃথিবীতে শয়তানের আরাধনা করা মানুষও যখন আছে তখন মুজিব আর হাসিনার পুজা করা মানুষ থাকতেই পারে।

হাসিনার আমল আমাদের বঞ্চনার আমল। পাকিস্তানের ২৩ বছরে যত লুটতরাজ হয়েছে হাসিনার ১৫ বছরে তারচেয়ে বেশি লুট হয়েছে। পাকিস্তানের ২৩ বছরে যত রাজনৈতিক মামলা হইছে হাসিনার আমলে তারচেয়ে বেশি মামলা হইছে। পাকিস্তানের ২৩ বছরে যত বিরোধী দলীয় মানুষ হত্যা করা হইছে হাসিনার আমলে তারচেয়ে বেশী মানুষ হ* ত্যা করা হইছে। যে কোন বিচারে হাসিনার আমলে আমরা পাকিস্তানি আমলের চেয়েও বেশি বঞ্চিত ও পরাধীন ছিলাম।

একাত্তরে তারা ভেবেছিল অল্প কয়েকজন আন্দোলনকারীকে মেরে ফেললেই স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেমে যাবে। কিন্তু আমাদের একজন মেজর জিয়া ছিল। তিনি বিদ্রোহ করলেন। হাতে অস্ত্র তুলে নিলেন। যুদ্ধ শুরু হল।

হাসিনার আমলে আমরা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করতে পারিনি দুই কারণে। এক. এবার আমাদের কোন মেজর জিয়া ছিল না। দুই. এবার আন্দোলনকারী ছিল কোটির উপরে। এতবেশি আন্দোলনকারীর উপর সর্বাত্মক আক্রমণ চালানোর মত নির্বুদ্ধিতা করেনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ফলে আমাদেরকেও অস্ত্র হাতে নিতে হয়নি।

পাকিস্তানি আমল আর হাসিনার আমল তুলনা করলে দেখবেন যে কোন বিচারে একাত্তরের চেয়ে ২৪ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান যদি একাত্তরে জয়লাভও করত তবু তারা বেশিদিন এই দেশ শাসন করতে পারত না। বাংলাদেশ থেকে তাদের চলে যেতে হতই। কিন্তু ২৪ সালে যদি হাসিনা জয়লাভ করত তাহলে বাংলাদেশ হত সিকিম। সেক্ষেত্রে আমরা আর কখনও স্বাধীন হতে পারতাম না।

সুতরাং ৭১ এর চেয়ে ২৪ আমাদের জাতীয় জীবনে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এইটাই ফাইনাল কথা। এটাই চিরন্তন সত্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top