আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি বাগরাম ফেরত চাওয়ার দাবি তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তালেবান প্রশাসন তার এ দাবি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান স্টাফ ফাসিহুদ্দিন ফিতরাত স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, “কিছু মানুষ একটি রাজনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে ঘাঁটিটি ফেরত নিতে চায়। আফগানিস্তানের এক ইঞ্চি মাটি নিয়েও কোনো চুক্তি সম্ভব নয়।”
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে তালেবান সরকার জানায়, “আফগানিস্তানের স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ববর্তী চুক্তি মেনে চলতে হবে এবং বলপ্রয়োগ না করার অঙ্গীকারে অটল থাকতে হবে।”
তালেবান আরও বলেছে, “পূর্বের ব্যর্থ নীতির পুনরাবৃত্তির বদলে বাস্তববাদ ও যুক্তিনির্ভর নীতি গ্রহণই হবে সময়োপযোগী।”
কাবুল শহরের প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত বিশাল এই বিমানঘাঁটি আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ ২০ বছরের যুদ্ধকালীন সময়ে প্রধান সামরিক কেন্দ্র ছিল। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে শুরু হওয়া ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের’ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় বাগরাম। এ ঘাঁটিতে বিনা অভিযোগে ও বিচারে বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার মানুষকে বন্দি রাখার পাশাপাশি নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হঠাৎ ও বিশৃঙ্খলভাবে আফগানিস্তান ত্যাগের পর তালেবান এই ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প একাধিকবার বাগরাম ঘাঁটি ফেরত চাওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমরা এখন আফগানিস্তানের সঙ্গে কথা বলছি। আমরা এটি ফেরত চাই, এবং খুব তাড়াতাড়ি চাই। ওরা যদি না দেয়, তাহলে কী করব সেটা ওরা ঠিকই জানতে পারবে।”
এর আগে যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রীয় সফরের সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প প্রথম ঘোষণা দেন যে, তিনি এই ঘাঁটি ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
সূত্র: আল জাজিরা




