কওমি মাদরাসা ও বাংলাদেশের সমাজগঠন: ইতিহাস ও উত্তরাধিকার

ওলিউর রহমান

ঢাকায় এবং সারা বাংলাদেশে কওমি মাদরাসা বিস্তারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সময় কোনটা? আমার অনুমান এবং জানাশোনা যদি ভুল না হয় তাহলে স্বাধীনতা পরবর্তী একুশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত। প্রভাব এবং পরিধির বিচারে বড় উল্লেখযোগ্য অনেকগুলো মাদরাসা এই সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
একটা শিক্ষা কাঠামো অনেকের সম্মিলিত দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় গড়ে উঠে। হাটহাজারী, জিরি, শর্শর্দী, জামিয়া ইউনুছিয়া ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান বিশ শতকের শুরু লগ্নে যে কালপর্বের সূচনা করেছিল বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পঞ্চাশ, ষাটের দশকে সেটি রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে তার ভিত্তি মজবুত করে।
এ সময়ের মধ্য ঢাকায় লালবাগ, মালিবাগ মাদরাসা, চট্টগ্রামে পটিয়া ইত্যাদি মাদরাসা, উত্তরবঙ্গে জামিল, পোরশা মাদরাসা, দক্ষিণবঙ্গে গওহরডাঙ্গা, খুলনা দারুল উলুম মাদরাসা, বৃহত্তর মোমেনশাহীতে খাগডহর, জামিয়া ইমদাদিয়া, মউ মাদরাসা, সিলেটে দরগা এবং অন্যান্য মাদরাসা ব্যাপক আড়ম্বরের সাথে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কওমি মাদরাসা বাংলাদেশে একটা কাঠামো লাভ করে।
এরপর স্বাধীনতা উত্তর সময়ে ঢাকায় রাহমানিয়া, বারিধারা, যাত্রাবাড়ী, ঢালকানগর ইত্যাদি মাদরাসা এবং সারা বাংলাদেশে ছোট, বড় অসংখ্য মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে কওমি মাদরাসা কেন্দ্রীক একটা পৃথক সমাজ তৈরি হয়েছে। যে সমাজ স্বল্প পরিসরে হলেও প্রভাব বিস্তারের ভূমিকায় পৌঁছুতে পেরেছে।
কওমি সমাজ প্রতিষ্ঠার এই কালপর্বটা মনে রাখতে হবে। প্রতিটা সময়সমষ্টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দারুল উলুম দেওবন্দের ইতিহাস জানার পাশাপাশি নিজের দেশে কীভাবে কওমি সমাজ প্রতিষ্ঠিত সেই ইতিহাসটুকুও জানা উচিত। মাদরাসায় ইতিহাসের এই ক্রমধারা পাঠ্যভূক্ত থাকা উচিত।
দূর অতীতের আলেমদের প্রতি আমাদের যে সম্মান এবং সম্ভ্রম নিকট অতীতের জীবিত বা প্রয়াত আলেমদের প্রতি এই সম্মান এবং সম্ভ্রমটুকু প্রদর্শন করা দরকার। তাদের মহান আত্মত্যাগের বদৌলতেই আমাদের জন্য দ্বীন পালন সহজতর হয়েছে।
ইতিহাস কাতরতা আমাদের বাঙালি মুসলিমদের প্রধানতম দুর্বলতাগুলোর একটি। আমরা দূরের ইতিহাস পাঠ করতে গিয়ে, অতীতকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে নিকট ইতিহাস বা বর্তমানকে ভুলে থাকি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top