মুফতি আবু বকর নাবিল
কওমী মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার যেধরণের স্বীকৃতি ও সংস্কারের দাবি আমাদের অঙ্গনের সচেতনরা করেন, তার উদ্দেশ্যে হলো- কওমী মাদরাসাগুলোর মৌলিক লক্ষ্যকেই আরো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা। সেই লক্ষ্যকে আরো দূরে ঠেলে দেওয়া কিন্তু সচেতনদের কারোরই দাবি নয়।
‘কওমী মাদরাসা ব্যবস্থা’ শিক্ষার একটি বিশেষায়িত ধারা। এর প্রধান উদ্দেশ্যই হলো, সুদক্ষ ধর্মীয় নেতৃত্ব তৈরি করা। সুতরাং এখানে যদি সংস্কার ও স্বীকৃতি প্রয়োজন হয় তাহলে সেই স্বীকৃতি ও সংস্কার এমন হবে যা ধর্মীয় নেতৃত্ব তৈরিতে আরো সহায়ক হবে, উপকারী হবে।
পাশাপাশি এমন শিক্ষাব্যবস্থাও প্রয়োজন যা ধর্মীয় নেতৃত্ব তৈরি করতে না পারলেও উম্মাহ দরদী ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী তৈরি করবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশে এই দায়িত্ব এক ও এককভাবে স্কুল বা জেনারেল শিক্ষাব্যবস্থার। জেনারেল ব্যবস্থার সংস্কার না করে মাদরাসা ব্যবস্থায় এই সংস্কার করা হলে একজনের অসুখের কারণে আরেকজনের গায়ে অপারেশনের মতন অবস্থা হবে!
দুজন ছাত্রের একজন অংকে ফেল করেছে আরেকজন ইতিহাসে। যে ইতিহাসে ফেল করেছে তাকে ইতিহাস নিয়ে বকতে হবে। ইতিহাসে ফেল করা ছাত্রকে জোর করে ধরে অংক শেখানো হবে পাগলামি।
তবে প্রতিবছর বর্তমানে যেসংখ্যায় কওমী মাদরাসার নতুন ফারেগীনরা কর্মক্ষেত্রে ঢুকছেন, ধর্মীয় সেক্টরে এত সংখ্যায় উপযুক্ত পদ নেই- এবিষয়টি নিঃসন্দেহে সত্য। কিন্তু এর সমাধান কী কওমী মাদরাসার শিক্ষাব্যবস্থার এমন মৌলিক সংস্কার যা এখানকার ফারেগীনদের ভিন্ন কর্মক্ষেত্রের উপযুক্ত করে গড়ে তুলে?
নাহ, এটি ভুল সমাধান। মারাত্মক ভুল সমাধান।
এই ধরণের সমাধানের কথা সাধারণত দুই শ্রেণীর মানুষ ভাবেন-
১- যিনি কওমী মাদরাসার ধারার প্রতি দরদী কিন্তু এর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে পরিষ্কার জানেন না।
২- যিনি কওমী মাদরাসার ধারার প্রতি প্রচন্ড বিদ্বেষী। কিন্তু একে সরাসরি গলাটিপে শেষ করতে পারছেন না।
এই সমস্যারও সমাধান দরকার। তবে ‘মৌলিক লক্ষ্যচ্যুত করে ফেলা’ নিশ্চিতভাবেই এর সমাধান না।




