সম্প্রতি ইসলামপন্থী জনপ্রিয় কিছু অ্যাক্টিভিস্টদের বিরুদ্ধে কথিত জঙ্গি মামলার বিষয়ে সামাজিক ও নাগরিক মহলে প্রবল প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অনেক সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট আশঙ্কা করছেন, সরকারের ও প্রশাসনের চাপে পড়ে এই মামলা হয়তো প্রত্যাহার হয়ে যেতে পারে। তারা মনে করছেন, এভাবে থেমে গেলে ভবিষ্যতে একই কায়দায় কেউ ভুক্তভোগী হলে এই প্রজন্মকে তারা ক্ষমা করবে না। সেজন্য অ্যাক্টিভিস্টরা দাবি তুলেছেন, এবারই সংশ্লিষ্টদের চূড়ান্ত শিক্ষা দিতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে কেউ সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে এভাবে খেলা করার সাহস না পায়।
প্রস্তাবিত আইনি ও সামাজিক পদক্ষেপগুলো হচ্ছে-
১. মানহানির মামলা করা : ভুক্তভোগীদের প্রতি যে অবিচার হয়েছে, তার প্রতিকারস্বরূপ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা জরুরি বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।
২. মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও সম্পৃক্তদের বরখাস্তের দাবিতে রাজপথে চাপ তৈরি : এই মামলার পেছনে যাদের পরিকল্পনা, অনুমোদন বা ভূমিকা ছিল, তাদের সবাইকে বরখাস্ত করার জন্য রাজপথে গণচাপ সৃষ্টির আহ্বান জানানো হয়েছে।
৩. সম্পৃক্তদের পরিচয় প্রকাশ করে সামাজিক চাপ তৈরি : অভিযোগকারীদের মতে, এই মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট সবার পরিচয় জনসম্মুখে প্রকাশ করে তাদের উপর সামাজিক চাপ তৈরি করতে হবে। তাদের আত্মীয়-স্বজনরা যদি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে, তাহলে তাদেরও সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান এসেছে।
4. এন্টি-টেররিজম ইউনিট (ATU) ও সিটিটিসি-র মতো সংস্থাগুলোর কর্মীদের উপর সামাজিক চাপ : এই সংস্থাগুলোর কর্মকাণ্ডকে নাট্যনির্ভর ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বলে দাবি করে বলা হয়েছে, সেখানে যারা চাকরি করেন, তাদের উপরও সামাজিক চাপ প্রয়োগ করতে হবে, যেন তারা ভবিষ্যতে এমন অন্যায়ের অংশ না হন।
৫. এই সংগঠনগুলো ভেঙে ফেলার জন্য সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি : ক্ষুব্ধ জনমত বলছে, এন্টি-টেররিজম ইউনিট ও সিটিটিসির মতো সংস্থাগুলো ভেঙে ফেলার জন্য জনগণকে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই দাবি ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে সমর্থন পাচ্ছে। নাগরিক সমাজ মনে করছে, এখনই যদি কঠোর আইনি ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া না আসে, তাহলে এই ধরনের অন্যায় ও হয়রানি আরো বাড়বে। অভিযোগকারীদের মতে, ‘এদের এবারই চূড়ান্ত শিক্ষা দিতে হবে।’




