গাজা শহরের পূর্বাঞ্চলের শুজাইয়া এলাকায় আজ সকালে সংঘটিত লড়াইয়ে অন্তত পাঁচ ইসরাইলি সৈন্য আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটলো যখন গাজা উপত্যকার পূর্ব ও দক্ষিণ অংশে ইসরাইলি বাহিনী ও যানবাহনকে লক্ষ্য করে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামলা জোরদার করছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বরাতে জানা গেছে, গতকালের লড়াইয়ে উত্তর গাজা উপত্যকায় প্যারাট্রুপার্স ব্রিগেডের ২০২তম ব্যাটালিয়নের দুই সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া, মধ্য গাজা উপত্যকায় একটি অবিস্ফোরিত অস্ত্রের বিস্ফোরণে ইয়াহালোম ইউনিটের এক রিজার্ভ সৈন্য মাঝারিভাবে আহত হয়েছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যানুসারে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি পক্ষের মোট নিহতের সংখ্যা ৮৯৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে কেবল গাজায় স্থলযুদ্ধ চলাকালীন প্রাণ হারিয়েছেন ৪৪৯ জন সৈন্য এবং আহত হয়েছেন আরো ৬,১০৮ জন।
এদিকে, হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসসাম ব্রিগেড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের যোদ্ধারা ইসলামিক জিহাদের সামরিক শাখা আল-কুদস ব্রিগেডের সাথে যৌথভাবে খান ইউনিসের আল-কিজান এলাকার দক্ষিণে অবস্থিত একটি ইসরাইলি সেনা কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া, খান ইউনিসের আল-সাতার এলাকায় মঙ্গলবার ইসরাইলি সৈন্য ও যানবাহনের ওপর হামলার কথাও তারা নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে, গাজা শহরের পূর্বে সুজাইয়া পাড়ায় একটি সাঁজোয়া বাহন ও দু’টি সামরিক বুলডোজারকে লক্ষ্য করে হামলার কথাও জানিয়েছে কাসসাম ব্রিগেড। আল-কুদস ব্রিগেড একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। যেখানে দেখা যায়, গাজা শহরের আল-জেইতুন পাড়ার পূর্বে একটি ইসরাইলি সামরিক যান প্রবেশকালে একটি উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক ডিভাইস বিস্ফোরিত হয়ে তা ধ্বংস করে দেয়।
ইসরাইলি গণমাধ্যমগুলো আরো জানায়, সেনাবাহিনীর হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা গোপন রাখতে দখলদার কর্তৃপক্ষ গাজা যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে কড়া সেন্সরশিপ আরোপ করেছে। তবে বিভিন্ন পর্যবেক্ষক মনে করছেন, ইসরাইলি বাহিনীর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক বেশি।
এই পরিস্থিতি গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর জন্য আরো কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র : আল জাজিরা




