কেন আফগানিস্তান সফরে গেলেন মাওলানা মামুনুল হক

শারমিন খান শেফা

‎সম্প্রতি মামুনুল হকের আফগান সফর নিয়ে মিডিয়ায় গুঞ্জন শুরু হয়েছে। জানা যায়, তিনি ওমরাহ করতে গিয়ে দুবাই থেকে তার টিম সহ কাবুলে পৌঁছেছেন। আফগান ইমারাহ সম্পর্কে বাস্তবে ধারণা নেয়া ও অভিজ্ঞতা অর্জন তার সফরের উদ্দেশ্য।

‎আফগান এমিরেট বাস্তবায়নের পেছনে তালেবানদের প্রচেষ্টার পাশাপাশি মা*র্কি*ন অনুমোদন ছিল। দীর্ঘ ১৭ বছর মা*র্কি*ন শাসন চলাকালীন তালেবানরা মা*র্কি*ন পাপেট গভমেন্টের সাথে নেগোশিয়েট করতে চায়নি। অতঃপর ২০১৮ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মা*র্কি*নিরা তালেবানদের সাথে নেগোসিয়েশন শুরু করে। এই নেগোসিয়েশনগুলো মূলত দুবাইয়ে হত। পাকিস্তান ও আরব শাসকরাও সেখানে উপস্থিত থাকতো। অতঃপর ২০২১ সালে মা*র্কি*নিরা সেনা প্রত্যাহার করে তালেবানদের হাতে ক্ষমতা প্রদান করে এবং মোল্লা ওমরের মডেলকে সংস্কার করে মা*র্কি*ন মডেলে এমিরেট প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সাথে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে ৩ বিলিয়ন মা*র্কি*ন ডলার অর্থ সহায়তা দেয়া হয়।

‎বাংলাদেশে যখন ৮২% লোক শরীয়াহ শাসনের পক্ষে, সেক্ষেত্রে মা*র্কি*নিরা এদেশে ইসলামী শাসনের বিকল্প কিছু মডেল ভাবছে। এর মধ্যে একটি হলো টার্কি মডেলে গণতান্ত্রিক ইসলাম। আরেকটি হলো আফগান এমিরেট মডেল। বাংলাদেশে এই দুটি মডেলকেই মা*র্কি*নিরা বিকল্প হিসেবে বিবেচনাধীন রেখেছে। কারণ এই দুটি মডেলের ফরেন পলিসিতে কুফর হারবি রাষ্ট্র হিসেবে মা*র্কি*ন বিরোধিতা থাকেনা। উল্টো মা*র্কি*নিরাই নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় এদেরকে ব্যবহার করতে পারে।

বাংলাদেশে সেক্যুলার গণতন্ত্র ও এর মুখপাত্র হিসেবে হাসিনা ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। তাই মা*র্কি*নিরা ভবিষ্যতে গণতন্ত্রের বিকল্প হিসেবে এই দুটি মডেল ভেবে রেখেছে। টার্কি মডেলে মুখপাত্র হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে নেগোসিয়েশন চলমান। আর ব্যাক আপ টিম হিসেবে মামুনুল হকের নেতৃত্বে কওমিপন্থীদের একটি গ্রুপ রেডি করা হচ্ছে। তাই মামুনুল হকের আফগান সফর বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশে মা*র্কি*ন প্ল্যানেরই অংশবিশেষ।
তবে দুটি মডেলের ক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জ হলো ব্রি*টিশ-ই*ন্ডি*য়া। জামায়াত যতই মডারেট বা গণতান্ত্রিক হোক, ই*ন্ডি*য়া কোনভাবেই তাকে টলারেট করতে রাজি নয়। অন্যদিকে আফগানপন্থী কওমী ওলামাদের ভা*রত তার ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে থ্রে*ট বলে মনে করে।

কদিকে সীমান্তবর্তী রাষ্ট্র পাকিস্তানতো আছেই; অন্যদিকে আবার বিষফোঁড়া হিসেবে বাংলাদেশী এমিরেট ভা*রত কোনদিনও হতে দেবেনা। আর মা*র্কি*নিরা সরাসরি কতটুকু ই*ন্ডি*য়ার স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে, সেটা প্রশ্ন সাপেক্ষ। বরং মামুনুল হকের সফরের পরে বাংলাদেশে ভা*রত বিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ে ভার*তের টেনশন বেড়ে যেতে পারে।

তাই এই সফর আপাতদৃষ্টিতে মা*র্কি*নপন্থীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করলেও ব্রি*টিশ ভার*তের চাপ কিভাবে সামাল দেবে, সেটাও একইসাথে দুশ্চিন্তার বিষয় বটে। মা*র্কি*নিদের  উদ্দেশ‍্য হলো মা*র্কি*ন স্বার্থে ই*ন্ডি*য়া কোন ঝামেলা করার চেষ্টা করলে মামুনুল হকদের মাঠে নামানো হবে ই*ন্ডি*য়া বিরোধী আন্দোলনে, তখন ই*ন্ডি*য়া কিছুটা চাপের মধ‍্যে পড়ব‍ে। তাই ওলামাদের মা*র্কি*ন স্বার্থে ব‍্যবহার হওয়াটা উম্মাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। উম্মাহ উপ*নিবে*শবাদমুক্ত একটি সুপার পাওয়ার রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top