গাজা উপত্যকা বর্তমানে এক ভয়াবহ মানবিক সঙ্কটের সম্মুখীন। সেখানে ইসরাইলের প্রায় পাঁচ মাসব্যাপী অবরোধের প্রভাবে খাদ্য, জ্বালানি, পানি এবং অন্যান্য জরুরি সরবরাহে চরম ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
সোমবার নিরাপত্তা পরিষদে ‘অনাহার প্রতিটি দরজায় কড়া নাড়ছে’ বলে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এই পরিস্থিতিকে বর্ণনা করেছেন।
অনাহার এমন এক মারাত্মক অবস্থা, যার ফলে শরীরে গুরুতর স্বাস্থ্যগত জটিলতা দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে তা মানুষকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। ধারণা করা হয় যে খাদ্য ছাড়া একজন মানুষ প্রায় তিন সপ্তাহ পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে, যদিও এটি ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হয়।
অনাহার সাধারণত তিনটি পর্যায়ে ঘটে-
প্রথম পর্যায় : এটি শুরু হয় যখন মানুষ খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেয়। শরীর তখন স্বাভাবিক শক্তি ব্যবহার করে দৈনন্দিন কার্যক্রম চালাতে থাকে।
দ্বিতীয় পর্যায় : কিছুদিনের উপবাসের পর শরীর শক্তির জন্য সঞ্চিত চর্বি ব্যবহার শুরু করে। এই পর্যায়ে ওজন দ্রুত কমে যেতে থাকে।
তৃতীয় ও মারাত্মক পর্যায় : যখন শরীরের সমস্ত সঞ্চিত চর্বি নিঃশেষ হয়ে যায়, তখন শরীর বেঁচে থাকার জন্য পেশী ও হাড় পর্যন্ত ভাঙতে শুরু করে। এ পর্যায়েই মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
গাজা উপত্যকায় বর্তমান অবরোধের প্রেক্ষাপটে এসব ধাপে ধাপে অনাহারের প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। এটি শুধু একটি রাজনৈতিক বা মানবিক সঙ্কট নয়, বরং মানুষের অস্তিত্বের ওপর সরাসরি হুমকি।
সূত্র : আল জাজিরা




