গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি অনাহারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ১০৮ জন শিশু রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বারশ এক বিবৃতিতে জানান, গত ২৪ ঘন্টায় গাজার হাসপাতালগুলোতে অপুষ্টির কারণে আরও ১১ জনের মৃত্যু রেকর্ড হয়েছে। তিনি আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, উপত্যকায় বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। অন্যদিকে দখলদার বাহিনী পর্যাপ্ত ত্রাণ ট্রাক প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। যে কয়েকটি ট্রাক প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছে, সেগুলোও লুটপাট ও চুরির শিকার হচ্ছে।
অঙ্গচ্ছেদের ঘটনা
আল-বারশ আরও জানান, ওষুধের ঘাটতির কারণে গাজা উপত্যকায় ইতিমধ্যে ১,০০০ শিশুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে ফেলা হয়েছে। গাজার মেডিকেল রিলিফ সোসাইটির পরিচালক বাসাম জাকৌত আল জাজিরাকে বলেন, অপুষ্টির ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া শিশুদের চিকিৎসা করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সালমিয়া আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ওষুধের অভাব ও অপুষ্টির কারণে বর্তমানে ২০০ জনেরও বেশি রোগীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ মোকাবেলায় অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়ায় অঙ্গচ্ছেদের ঘটনা বাড়ছে। এদিকে, গাজায় চলমান ইসরাইলি বোমাবর্ষণের ফলে হাসপাতালগুলো আহত রোগীতে উপচে পড়ছে।
সীমান্ত বন্ধ ও দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি
২ মার্চ থেকে ইসরাইল গাজার সব ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে এবং মানবিক সাহায্য প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। সীমান্তে সাহায্যের ট্রাক জট থাকলেও উপত্যকায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছাতে দেওয়া হচ্ছে না। সীমিত সংখ্যক সরবরাহ ঢুকতে পারলেও তা ক্ষুধার্ত মানুষের ন্যূনতম চাহিদা পূরণে অপ্রতুল।
সম্প্রতি জাতিসঙ্ঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করেছে, গাজার জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কয়েক দিন ধরে কোনো খাবার খেতে পারেনি।
ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ
চলমান ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৬১,৮২৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ১,৫৫,২৭৫ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই শিশু ও নারী। এছাড়া ৯,০০০ এরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সূত্র : আল জাজিরা




