মাইক্রোসফট, ইসরাইল, গাজা, মাইক্রোসফটের নীতিশাস্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন, প্রযুক্তি ব্যবহারে মানবাধিকার লঙ্ঘিত, মাইক্রোসফ্টের এআই প্রযুক্তি

গাজায় আগ্রাসনে ইসরাইলকে সহযোগিতা : ক্ষুব্ধ মাইক্রোসফটের বিনিয়োগকারীরা

মাইক্রোসফটের নীতিশাস্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে কোম্পানির ব্যবস্থাপনার উপর চাপ বাড়াচ্ছেন বিনিয়োগকারীদের একটি প্রভাবশালী দল।

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৬০ জনেরও বেশি বিনিয়োগকারীর এই গ্রুপ সম্মিলিতভাবে মাইক্রোসফটের প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলারের শেয়ারের মালিক। তারা চাইছেন, প্রযুক্তি ব্যবহারে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে কিনা তা নির্ধারণের প্রক্রিয়া কোম্পানি আরো স্বচ্ছভাবে ব্যাখ্যা করুক।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই গ্রুপটি ইকো, ইনভেস্টরস ফর সোশ্যাল জাস্টিস এবং ক্যাথলিক নারী সংগঠন সিস্টার্স অফ দ্য সেক্রেড হার্ট অফ মেরিসহ একাধিক মানবাধিকার সংস্থার সহযোগিতায় চলতি মাসের শুরুতে কোম্পানিকে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছে।

তবে এই অনুরোধগুলো তখনই কার্যকর হবে যদি ডিসেম্বরে কোম্পানির বিনিয়োগকারীদের সভায় তা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত হয়। এখন পর্যন্ত এসব অনুরোধ পরিচালনা পর্ষদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়, যা তুলনামূলকভাবে বিরল ঘটনা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইকো সংস্থার রাওয়ান আল-হাদ্দাদ ব্লুমবার্গকে বলেন, ‘এই কোম্পানিগুলো আর কেবল প্রযুক্তি কোম্পানি নয়; তারা অস্ত্র কোম্পানি।’

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ইকো এবং তার মতো অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থা প্রযুক্তি কোম্পানি ও বিভিন্ন সরকারের উপর প্রভাব বিস্তারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

শেয়ারহোল্ডারদের অনুরোধ সম্পর্কে মন্তব্য করতে মাইক্রোসফ্ট অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে গত মে মাসে এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি জানিয়েছিল, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালানো হয়েছে।

মাইক্রোসফ্ট তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে জানিয়েছে, ‘আমরা এমন কোনো প্রমাণ পাইনি যে মাইক্রোসফ্টের এআই প্রযুক্তি বা আমাদের অন্য কোনো সফ্টওয়্যার মানুষের ক্ষতির জন্য ব্যবহার হয়েছে, কিংবা ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আমাদের পরিষেবার শর্তাবলী বা এআই আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে।’

তবে আবেদনকারীরা ব্লগ পোস্টে যথাযথ ব্যাখ্যার অভাবের কথা তুলে ধরেছেন এবং বলেছেন, মাইক্রোসফ্ট স্বীকার করেছে যে তাদের গ্রাহকরা নিজ নিজ সার্ভারে কী করছেন সে বিষয়ে কোম্পানির কোনো জ্ঞান নেই।

এদিকে মানবাধিকার প্রশ্নে কোম্পানির ভূমিকা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে এই নতুন চাপ মাইক্রোসফটের প্রযুক্তি ব্যবহারের নৈতিক সীমা নিয়ে আরো আলোচনা উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র : ব্লুমবার্গ/আল জাজিরা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top