গাজায় ইসরাইলের চলমান সামরিক হামলা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর ঐকমত্যে ফাটল দেখা দিয়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরাইলকে আক্রমণ বন্ধ ও মানবিক সহায়তা প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে আহ্বান জানিয়েছে। তারা সতর্ক করেছে, এসব দাবি মানা না হলে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
বিবৃতিতে নেতারা গাজার মানবিক দুর্দশাকে ‘অসহনীয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তারা অধিকৃত পশ্চিমতীরে বসতি সম্প্রসারণ ও সহিংসতারও বিরোধিতা করেছেন। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য ইসরাইলের সাথে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেছে এবং অবৈধ বসতি-সংক্রান্ত সহিংসতা সমর্থনকারী কিছু ব্যক্তি ও সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
জাতিসঙ্ঘসহ আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরাইল গাজায় সীমিতসংখ্যক ত্রাণ ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দিলেও তা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের ত্রাণপ্রধান।
এদিকে সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসসহ ২৪টি দেশ গাজায় বাধাহীন ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক ক্যালাস ইইউ-ইসরাইল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি) মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট ধারা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার অবস্থান ইসরাইলের আচরণে সরাসরি পরিবর্তন না আনলেও, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইসরাইলবিরোধী অবস্থান গ্রহণকে সহজতর করবে। তবে ইসরাইলের ওপর মূল প্রভাব ফেলতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
বিষয়টি নিয়ে ফিলিস্তিনি বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা বলছেন, কেবল বিবৃতি নয়, পশ্চিমা দেশগুলোকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং আন্তর্জাতিক আদালতগুলোতে যুদ্ধাপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করতেও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
সূত্র : আল জাজিরা




