মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউস বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা আলোচনা করবে। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা ট্রাম্পের ‘মানবিক উদ্দেশ্য’ প্রতিফলিত করবে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উইটকফ অভিযোগ করেন, ইসলামিক প্রতিরোধ আন্দোলন (হামাস) যুদ্ধবিরতি ও বন্দী বিনিময় চুক্তি বিলম্বিত করছে, যদিও কয়েক সপ্তাহ ধরে একটি প্রস্তাব টেবিলে রয়েছে। তিনি আরও জানান, ইসরাইল গাজার জন্য ৬০০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা ঘোষণা করেছে এবং হামাস সাড়া দিলে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান
উইটকফ ব্যাখ্যা করেন, ট্রাম্প প্রশাসন কোনো আংশিক চুক্তি মেনে নেবে না এবং একসাথে সব বন্দীর মুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রশাসন হামাসকে পরামর্শ দিয়েছে বন্দীদের খাদ্য ও চিকিৎসা সেবা দিতে এবং রেড ক্রসকে তাদের কাছে পৌঁছানোর অনুমতি দিতে। তার দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এটাই চান।
উইটকফ ইঙ্গিত দেন, হামাস আলোচনায় কিছুটা নমনীয়তা দেখাচ্ছে, অন্যদিকে ইসরাইলিরাও আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি বছরের শেষের আগেই গাজায় যুদ্ধ শেষ হবে।’
সাংবাদিক হত্যার প্রশ্নে উইটকফ মন্তব্য করেন, যেকোনো বেসামরিকের মৃত্যু ‘দুর্ভাগ্যজনক ট্র্যাজেডি’, তবে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ঘটে। তার মতে, ট্রাম্পের অগ্রাধিকার হলো সংঘাতের অবসান।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে হামাসের অভিযোগ
অন্যদিকে হামাস অভিযোগ করেছে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বন্দী বিনিময় ও যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে বাধা দিচ্ছেন। তাদের দাবি, মধ্যস্থতাকারী কাতার ও মিশরের প্রস্তাবে সম্মতি জানানোর পরও নেতানিয়াহুর গাজা শহর দখলের পরিকল্পনা প্রমাণ করছে যে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে আলোচনাকে ব্যর্থ করছেন।
হামাস জানিয়েছে, তারা প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, কিন্তু ইসরাইল এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
ইসলামিক জিহাদ আন্দোলনের মুখপাত্র মুহাম্মদ আল-হাজ মুসা আল জাজিরা মুবাশ্বিরকে বলেন, দখলদার ‘পরিকল্পিতভাবে আলোচনা ব্যাহত করছে’, যা আগের ক্ষেত্রেও ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিরোধ আন্দোলন সবসময় ‘অজুহাত দূর করতে’ কাজ করেছে, কিন্তু এবার ইসরাইল ‘গিডিয়ন ওয়ালস অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায় অনুমোদনের পর’ আলোচনায় বাধা সৃষ্টি করছে।
সূত্র : আল জাজিরা মুবাশ্বির




