শেখ বদর আল-দীন উসমান

গাজার জনগণের জন্য প্রার্থনার প্রভাব আমরা কেন দেখতে পাই না?

আল জাজিরার “আল্লাহর দিন” অনুষ্ঠানে মুবাশ্বের সম্প্রচারিত আলোচনায় গাজার বর্তমান মানবিক বিপর্যয় এবং মুসলিম উম্মাহর দায়িত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ উঠে এসেছে। অনুষ্ঠানে ইসলামী প্রচারক শেখ বদর আল-দীন উসমান বহু মুসলিমের মনে জাগা একটি প্রশ্নের উত্তর দেন—বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মুসলমান গাজার জনগণের জন্য প্রার্থনা করছেন, অথচ তার প্রত্যক্ষ প্রভাব কেন দেখা যাচ্ছে না?

প্রার্থনার প্রভাব ও আল্লাহর পরীক্ষা

শেখ উসমান বলেন, গাজার জনগণ যে বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে তা প্রার্থনার অকার্যকারিতা নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে এক পরীক্ষা এবং মর্যাদা বৃদ্ধির মাধ্যম। তিনি কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করেন:
“যদি তুমি কষ্ট পাও, তাহলে তারাও তোমার মতো কষ্ট পাও, এবং তুমি আল্লাহর কাছ থেকে এমন কিছু আশা কর যা তারা আশা করে না।” (সূরা আন-নিসা: ১০৪)

তার মতে, আল্লাহর ঐশ্বরিক হিকমতের কারণে বিজয় বিলম্বিত হতে পারে, তবে এর মধ্যে অনেক নিদর্শন রয়েছে। তিনি বলেন, ইসরায়েলের অজেয় সেনাবাহিনী ভেঙে পড়েছে, দখলদারদের মিথ্যা ইতিহাস উন্মোচিত হয়েছে, যা নিজেই আল্লাহর পক্ষ থেকে বিজয়ের অংশ।

প্রস্তুতির অভাব ও পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা

শেখ উসমান আরও ব্যাখ্যা করেন, মুসলিম উম্মাহকে বিজয় ও নেতৃত্বের যোগ্য হতে হলে পরীক্ষা ও প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আল্লাহ বিজয় দান করতে সক্ষম হলেও মুসলমানরা এখনো সেই দায়িত্ব পালনে পূর্ণ প্রস্তুত নয়। তিনি বলেন, কিছু ইসলামপন্থী গোষ্ঠী ক্ষমতায় আসার পর যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তা দেখিয়েছে যে নেতৃত্বের আগে শিক্ষা ও প্রস্তুতি অপরিহার্য। এটি ইসলামের ত্রুটি নয়, বরং মানুষের দুর্বলতার কারণে।

গাজার দুর্ভিক্ষ ও মুসলমানদের সম্মিলিত দায়িত্ব

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে গাজায় দুর্ভিক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার প্রেক্ষিতে শেখ উসমান স্পষ্ট করে বলেন, এর দায়ভার পুরো মুসলিম উম্মাহর ওপর বর্তায়—শাসক থেকে সাধারণ মানুষ, সবাই এতে দায়ী। কোরআনের আয়াত উল্লেখ করে তিনি বলেন: “আল্লাহ কোন আত্মাকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।” তবে আর্থিক সহায়তা, ত্রাণ, আন্তরিক প্রার্থনা—সব ক্ষেত্রেই মুসলমানদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা কর্তব্য।

উদাসীনতার সমালোচনা

শেখ উসমান মুসলমানদের উদাসীনতার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, মুসলিমরা তাদের রক্তে সমান এবং শত্রুর বিরুদ্ধে তারা এক দেহের মতো হওয়া উচিত। যদি গাজার জনগণকে সমর্থন করতে মুসলমানরা ব্যর্থ হয়, তবে ভবিষ্যতে এর ভয়াবহ মূল্য দিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যেদিন সাদা ষাঁড়টি খাওয়া হয়েছিল সেদিনই তোমাদেরও খাওয়া হয়েছিল।”—অর্থাৎ আজ গাজায় যা ঘটছে, আগামীকাল তা অন্যদের সঙ্গেও ঘটতে পারে।

শেখ বদর আল-দীন উসমানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গাজার পরিস্থিতি মুসলমানদের জন্য এক পরীক্ষা ও দায়িত্বের স্মারক। প্রার্থনার প্রভাব অদৃশ্য থাকলেও আল্লাহর হিকমতে এর ফলাফল রয়েছে। আর গাজার দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর উচিত নিজেদের দায়িত্ব উপলব্ধি করা, আর্থিক ও মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসা এবং আন্তরিক প্রার্থনা চালিয়ে যাওয়া।

সূত্র : আল জাজিরা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top