ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জানিয়েছেন, গাজা উপত্যকায় হামাস আর শাসন করবে না। সেখানে সঙ্কট সমাধানের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে আরব ও আন্তর্জাতিক সমর্থনের মাধ্যমে ক্ষমতায়িত করা।
রোববার জর্ডানের রাজধানী আম্মানে নিজের বাসভবনে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের সাথে বৈঠকের সময় আব্বাস এমন মন্তব্য করেন।
সরকারি ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, বৈঠকে উভয় নেতা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
আব্বাস জোর দিয়ে বলেন, ‘যুদ্ধপরবর্তী গাজায় হামাস গাজা উপত্যকা শাসন করবে না।’ একইসাথে তিনি তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান এবং সব ইসরাইলি বন্দী ও ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি প্রদান এবং গাজায় জরুরি মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরো বলেন, হামাসকে অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে এবং ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা (পিএলও)-এর রাজনৈতিক কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক স্বীকৃত নীতিমালা ও ‘এক রাষ্ট্র, এক আইন এবং এক বৈধ অস্ত্রের’ কাঠামোর মধ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সাল থেকে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক অঙ্গন বিভক্ত। গাজা শাসন করছে হামাস এবং পশ্চিমতীর নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফাতাহ আন্দোলনের দ্বারা।
আব্বাস পশ্চিমতীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ ও দখলদারিত্ব প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি ইসলামী ও খ্রিস্টীয় পবিত্র স্থাপনাগুলোর ওপর বারবার আক্রমণ বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি আন্তর্জাতিক বৈধতা, আরব শান্তি উদ্যোগ এবং নিউইয়র্কে প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনের ভিত্তিতে একটি কার্যকর দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করার উপরও গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এই প্রেক্ষাপটে কাতারের রাজধানী দোহায় সম্প্রতি কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণে হামাস ও ইসরাইলি প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার নতুন দফা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি ও বন্দী বিনিময় চুক্তিতে পৌঁছানো।
এদিনের আগে হামাস ও ইসলামিক জিহাদ যৌথভাবে জানায়, ইসরাইলের সাথে যেকোনো আলোচনার শর্ত হবে গাজায় চলমান ধ্বংসযজ্ঞের অবসান, ইসরাইলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, সীমান্ত ক্রসিং খুলে দেয়া এবং উপত্যকার পুনর্গঠন নিশ্চিত করা।
সূত্র : আল জাজিরা




