ব্রিটিশ ওয়েবসাইট ডিক্লাসিফাইড এর এক তদন্তে উঠে এসেছে, আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স গাজা যুদ্ধের কভারেজে ইসরাইলের প্রতি সুস্পষ্ট পক্ষপাত দেখিয়েছে।
তদন্তে বলা হয়, সম্প্রতি রয়টার্স ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আনাস আল-শরীফ হত্যার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যার শিরোনাম ছিল: “ইসরাইল আল জাজিরার সাংবাদিককে হত্যা করেছে বলে তারা দাবি করে যে তিনি একজন হামাস নেতা।” অথচ আল-শরীফ ছিলেন রয়টার্সের সহযোগী এবং ২০২৪ সালের পুলিৎজারজয়ী দলেরও অংশ। এই শিরোনাম শুধু অনলাইনে সহিংস প্রতিক্রিয়াই সৃষ্টি করেনি, বরং রয়টার্সের ভেতরেও গভীর উদ্বেগ তৈরি করে।
তদন্তে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগস্টে রয়টার্স থেকে পদত্যাগকারী এক সাংবাদিক ইমেলে উল্লেখ করেন—“আমরা যাকে ইসরাইল–হামাস যুদ্ধ বলি, তাতে আমি বুঝতে পেরেছি আমার মূল্যবোধ আর সংস্থার মূল্যবোধ এক নয়।”
তিনি ও কয়েকজন সহকর্মী ব্যবস্থাপনাকে সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি মেনে চলার আহ্বান জানান। তবে তাদের মতে, সমালোচনা দমন অব্যাহত ছিল এবং নেতৃত্বে পরিবর্তনের সম্ভাবনা প্রায় অনুপস্থিত।
সংস্থার একাধিক সাংবাদিক মনে করেন গাজা যুদ্ধের কভারেজে রয়টার্স নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে তারা একটি দলগত তদন্ত পরিচালনা করেন। ফলাফল পরে খোলা চিঠির আকারে ব্যবস্থাপনার কাছে উপস্থাপন করা হয়।
চিঠিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল—কেন গাজায় গণহত্যার অভিযোগ নিয়ে পর্যাপ্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি, অথচ ইউক্রেনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগকে রয়টার্স অগ্রাধিকার দিয়েছে।
ডিক্লাসিফাইড জানায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত ফিলিস্তিন ও ইসরাইল সম্পর্কিত রয়টার্সের ৪৯৯টি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ফিলিস্তিনিদের তুলনায় ইসরাইলিদের ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত কভারেজে বেশি সম্পদ ব্যয় করা হয়েছে।
যদিও সেই সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল, গাজায় নিহতের সংখ্যা ১১,০০০–এরও বেশি—যা ইসরাইলি হতাহতের প্রায় ১০ গুণ।
তদন্তে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মে মাসে রয়টার্সের সম্পাদকীয় ম্যানুয়ালে কিছু পরিবর্তন আনা হয়। এতে “গণহত্যা” শব্দ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হলেও “ফিলিস্তিন” শব্দ ব্যবহারে বিধিনিষেধ বহাল রাখা হয়।
আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হাওয়ার্ড এস. গোলারের পাঠানো এক ইমেলে এসব নীতির আপডেট তুলে ধরা হয়। তবে এই আপডেটগুলোতে স্পষ্টত ইসরাইলের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হলেও গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা উপেক্ষা করা হয়—যেমন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে নাশকতা করার ভূমিকা, অবৈধ বসতি স্থাপন, বর্ণবাদ এবং ফিলিস্তিনে ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা।
এছাড়া, ১৮৬১ সালের আমেরিকান গৃহযুদ্ধের পর থেকে সাংবাদিকদের জন্য গাজা সবচেয়ে প্রাণঘাতী অঞ্চল—এই তথ্যটিও বাদ দেওয়া হয়।
সবশেষে, রয়টার্সের পক্ষ থেকে এক মুখপাত্র বিবৃতিতে দাবি করেন যে তাদের কভারেজ ছিল—“সংস্থার বিশ্বাসের নীতি অনুসারে ন্যায্য ও নিরপেক্ষ।”
সূত্র : আল জাজিরা




