স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার আলোচিত যুবলীগ নেতা ও দোলারা বাজার ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান এক সময়কার স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের ত্রাস হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তাকে এখন যুক্তরাজ্যে সরকারবিরোধী মঞ্চে সরব হতে দেখা যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে অন্তত দুটি অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের মামলা রয়েছে।
গত মাসে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের যুক্তরাজ্য সফরের সময় হাবিবকে দেখা গেছে ইউনূসবিরোধী একাধিক সভায়, যেখানে তাকে দেখা গেছে জুলাই বিপ্লবের হত্যা মামলার অন্যতম আসামি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কথিত মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান ফারুকের সাথে।
এলাকায় অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি সাবেক এমপি মহিবুর রহমান মানিক ও আওয়ামী লীগের ছায়ায় থেকে ২০১৮ সালের নির্বাচনে ছাতকে বিএনপি-জামায়াতপন্থী নেতা-কর্মীদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাড়া করেছিলেন। তখন তার নেতৃত্বে স্থানীয় দোলারবাজার ইউনিয়নসহ পুরো ছাতকে যুবলীগের দাপট ছিল প্রবল ভয়াবহ। এছাড়াও জুলাই বিপ্লবের সময় স্থানীয় বিএনপি -জামায়াতের নেতাকর্মীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তবে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নির্যাতিত বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা। হাবিবদের আটক করতে না পারা এবং দেশ ছেড়ে পালানোকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তীব্র ব্যর্থতার কথা বলছেন স্থানীয়রা। মুক্তকাল অনলাইনের অনুসন্ধানে জানা গেছে- হাসিনা পতনের পর ১৩ই আগস্ট রাত ১০টা ৩০ মিনিটের সময় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে সৌদি এয়ারলাইন্সের একটা ফ্লাইটে করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান যুবলীগ নেতা হাবিবুর রহমান।
স্থানীয় বিএনপি কর্মী জামাল হোসেন জানান, পতিত স্বৈরাচারের আমলে আমাদের বাড়ি ছাড়া করেছিল সে। এখন হাবিব স্বৈরাচারের পতনের পর দেশ ত্যাগ করে লন্ডনের মাটিতে বসে সিলেটের ছাত্র হত্যার নির্দেশদাতা আনোয়ারুজ্জামানের মতো দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে সভা-সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন। আমরা চাই হাবিবসহ যারা দেশ ত্যাগ করেছেন, সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে এসে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। সেই সাথে আর কোনো হাবিব যেন দেশ ত্যাগ না করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।




