জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশন, জাতিসঙ্ঘ,

জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কার্যালয় নিয়ে বিশিষ্টজনদের উদ্বেগ ও প্রতিবাদ

ঢাকায় জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের একটি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনকে ঘিরে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মীয়, রাজনৈতিক এবং সামাজিক অঙ্গনের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এ নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ, সন্দেহ এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

প্রখ্যাত ইসলামী বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী প্রশ্ন তোলেন, ‘এদেশে জাতিসঙ্ঘের আঞ্চলিক অফিস কেন?’ তিনি বলেন, ‘যেসব দেশে তাদের আঞ্চলিক দপ্তর রয়েছে, সেসব দেশের জনগণ কি সেখানে শান্তিতে আছেন? শান্তি আর মানবাধিকার রক্ষায় আমরা নিজেরা পারস্পরিক বোঝাপড়া মজবুত না করলে, তারা এখানে কি করতে পারবে?’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারজিস আলম তীব্র ভাষায় জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশনকে সমালোচনা করে বলেন, ‘যেই কমিশন গাজার গণহত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে কিছু করতে পারে না, ইরাককে ধ্বংসস্তূপ থেকে রক্ষা করতে পারেনি, সিরিয়া লিবিয়াকে রক্তপিপাসুদের কুনজর থেকে বাঁচাতে পারেনি; যেই কমিশন মধ্যপ্রাচ্যকে ধ্বংস হতে দিয়েছে, মুসলমানদের টার্গেট করে জঙ্গি ট্যাগ দিয়েছে, পশ্চিমাদের সাম্রাজ্যবাদী উদ্দেশ্যকে সার্ভ করেছে; সেই তথাকথিত মানবাধিকার কমিশন দিয়ে আমরা কি করব?’

আরেক এনসিপি নেতা মাহিন সরকার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সমসাময়িক কার্যক্রম খুব সুবিধার না। হঠাৎ জঙ্গি জঙ্গি খেলার আড়ালে অন্যকিছু চলছে কি-না সেটি দেশের মানুষ পর্যবেক্ষণ করছে। এই মুহূর্তে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপন কতটুকু যৌক্তিক?’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও চিকিৎসক ডা. মেহেদি হাসান জাতিসঙ্ঘ অফিস স্থাপন নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘ড. ইউনুস নির্লজ্জভাবে পশ্চিমের দালালি করে যাচ্ছেন। কোন ডিসকাশন ছাড়াই, জনগণের প্রতিবাদকে আমলে না নিয়ে চুপিচুপি কার্যালয় খুলে ফেললো দালালটা। সরি ড. ইউনুস! আপনি জুলাইয়ের গাদ্দার। আপনি ছাত্র জনতার রক্তের সাথে গাদ্দারি করছেন। আমেরিকার পা চাটতে যতটা ইফোর্ট দিয়েছেন, তার অর্ধেক ইফোর্ট দিলেও লীগের বিচার হতো।’

অন্যদিকে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা এবি জুবায়ের বলেন, ‘জাতিসঙ্ঘ কোন বা’ল! এর আবার মানবাধিকার কমিশন! যুগের পর যুগ ধরে গণহ’ত্যা চলছে গা’জায়। রীতিমতো উৎসব করে ধ্বং’সযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। আর পশ্চিমা বিশ্ব সেইটা উপভোগ করছে অধীর আগ্রহে। যতরকম সাপোর্ট লাগে দিয়ে যাচ্ছে সমানে। খাদ্যের অভাবে শুকনা কঙ্কালের মতো হয়ে যাচ্ছে সেখানকার শিশুরা! তাকানো যায় না তাদের দিকে! সিরিয়া, ইরাক, লিবিয়ার উদাহরণ আমাদের সামনে আছে। জাতিসঙ্ঘ ঠেকাইতে পারছে? ঠেকানোর নুন্যতম চেষ্টাটুকুও তো করে নাই। এসব কিছুর পরে আর জাতিসঙ্ঘ নামক কিছুর অস্তিত্ব আছে বলেই আমি বিশ্বাস করি না। মানবাধিকার বলতে তাদের কোনো বোধ আছে আমি বিশ্বাস করি না। একজন সচেতন বাংলাদেশী হিসেবে ঢাকায় জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কার্যালয় নামক স্ক্যাম চালুর বিরোধিতা করছি।’

সাম্প্রতিক এসব বক্তব্যে স্পষ্ট যে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কার্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে, এটি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও আদর্শিক ভারসাম্যে হস্তক্ষেপের আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top