বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জাতীয় পার্টি কখনো বিএনপির বন্ধু ছিল না। শুরু থেকেই তারা ছিল আওয়ামী লীগের হাতিয়ার। বিপদে পড়লে জাতীয় পার্টি সর্বদা আওয়ামী লীগের পাশে দাঁড়িয়েছে, দেশের স্বার্থের বিপরীতে।
৭ মে ১৯৮৬ সালে এরশাদের অধীনে নির্বাচনে না যেতে একমত হয়েছিল সকল রাজনৈতিক দল, আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, এরশাদের অধীনে যারা নির্বাচনে যাবে তারা জাতীয় বেঈমান। কিন্তু পরবর্তীতে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলেও রাতের আঁধারে এরশাদের সাথে লং ড্রাইভে গিয়ে শেখ হাসিনা একরাতেই নির্বাচনে যেতে রাজী হয়ে যান এবং আওয়ামী লীগ সংসদে বিরোধী দল হিসেবে বসে। মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান রেন্টু লিখেছেন, সেই সময়ে শেখ হাসিনা প্রতিদিন ভোরে গাড়িতে টাকা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে বাড়ি ফিরতেন। এতে বুঝা যায় জাতীয় পার্টি শুরু থেকেই আওয়ামী লীগের স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ছিল।
১৯৯১: যশোর-৩ আসনের উদাহরণ
বিএনপির তরিকুল ইসলাম: ৫৬,৫৮৬ ভোট
আওয়ামী লীগের রৌশন আলী: ৫৬,৮৮৩ ভোট
জাতীয় পার্টির খালেদুর রহমান টিটো: ২৮,৪৮৩ ভোট
ফলাফল: মাত্র ২৯৭ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির সম্ভাব্য জয় আটকে যায়। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, জাতীয় পার্টি কখনো বিএনপির বন্ধু ছিল না; তারা কার্যত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে।
১৯৯৬ বিএনপি ১১৬ আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৫১ আসন। জাতীয় পার্টি ৩২ আসন নিয়ে জোটে যুক্ত হয়—আওয়ামী লীগ ও জাসদ (রব)-এর সঙ্গে। এরশাদ পরে জোট ছাড়লেও, জাতীয় পার্টির মূল অংশ ছিল আওয়ামী লীগের পাশে। এটি আরও একবার প্রমাণ করে যে, তারা স্বাধীন রাজনৈতিক শক্তি নয়; সবসময় আওয়ামী লীগের স্বার্থের জন্য কাজ করেছে।
২০০১, ২০০৮, ২০১৪ এই তিনটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সবসময় আওয়ামী লীগের পাশে ছিল। তারা কখনো স্বাধীন বাংলাদেশপন্থী দল ছিল না। বিএনপির ভোট কেটে, দেশের স্বার্থের বিপরীতে কাজ করেছে। ভারতের অনুমতি ছাড়া কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব ছিল না।
সুনির্দিষ্ট বার্তা, বিপদে পড়লে আওয়ামী লীগের পাশে জাতীয় পার্টি সর্বদা দাঁড়ায়। তাদের নাম জাতীয় পার্টি, কিন্তু তারা কখনো স্বাধীনভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয় না। বিএনপির সহযোগী নয়। দেশের বন্ধু নয়। সবসময় তারা আওয়ামী লীগের দোসর এবং দেশের স্বার্থের শত্রু।
বিএনপির জন্য সতর্কবার্তা স্পষ্ট: জাতীয় পার্টিকে বন্ধু ভাবার ভুল করবেন না। তারা সবসময় আওয়ামী লীগের হাতিয়ার এবং দেশের স্বার্থের শত্রু।



