সাঈদ জামিল
জিয়াউর রহমান এবং হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ যা পারে নাই তাই করে দেখালো নাহিদ ইসলাম। বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি যা পারে নাই তাই করে দেখালো এনসিপি।
এনসিপি সব জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঠিকই পথসভা করেছে গোপালগঞ্জে। পতিত আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবকে তোয়াক্কা করার দল এনসিপি না। এটা আজ আবারও প্রমাণিত হলো।
এই আলীগকে ভয় পেয়েছিলো বিএনপি। জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় গোপালগঞ্জে গিয়েছিলেন সমাবেশ করতে। পারেন নাই। গোপালগঞ্জে প্রবেশের সময় শহরের প্রধান প্রবেশ পথে স্থানীয় আওয়ামীপন্থী জনতা মানবপ্রাচীর তৈরি করে জিয়াউর রহমানের গাড়িবহর থামিয়ে দেয়। উত্তেজিত লীগের সমর্থকেরা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে ‘ঘাতক’, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনি’ ইত্যাদি বলতে থাকে। মঞ্চ প্রস্তুত থাকলেও জিয়াউর রহমান বক্তব্য দিতে পারেন নাই। যে জায়গায় জনসভা হবার কথা ছিল, সেখানে জিয়াউর রহমান উপস্থিত হলে জনতার ভিড় এবং বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে চারদিক। বিক্ষোভকারীরা মাইক ছিনিয়ে নেয় এবং মঞ্চ ভাঙচুর করে।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সফরসঙ্গী নিরাপত্তা দল দ্রুত তাকে ঘিরে মানববেষ্টনী তৈরি করে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী হেলিকপ্টার যোগে কাছের একটি আর্মি ক্যাম্প থেকে এসে অপারেশন চালায়। জিয়াউর রহমানকে হেলিকপ্টারে করে তড়িঘড়ি গোপালগঞ্জ থেকে খুলনায় স্থানান্তর করা হয়।
এরশাদের ঘটনাও প্রায় একই। রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায়, শেষ দিকে, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের গোপালগঞ্জ সফরে যান। এরশাদ সামরিক শাসক থেকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নিজের রূপান্তর নিশ্চিত করতে গোপালগঞ্জ সফরের উদ্যোগ নেন। তিনি চেয়েছিলেন সেখানে জাতীয় পার্টির জনভিত্তি তৈরি করতে, যার ফলে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। ফলে তার গাড়িবহর কাশিয়ানী ও টুঙ্গিপাড়ার মধ্যবর্তী এলাকায় গাছ ফেলে অবরোধ করা হয়। ইট পাথর, বাঁশ, মাটি ইত্যাদি দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়। মিছিল ও বিক্ষোভে ভাঙচুর করা হয়, দাহ্য পদার্থেরও ব্যবহার করা হয়। সভাস্থলে এরশাদের আগেই উপস্থিত হয়ে যায় স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। তারা সভাবেশস্থলে আগুন ধরিয়ে দেয়, চেয়ার-টেবিল ছুড়ে ফেলে।
এরশাদ গাড়ি থেকে নেমে মঞ্চে উঠতে চাইলে তীব্র হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। বহু মানুষ দলীয় ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়। এরশাদকে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তাবেষ্টনীতে রাখা হয়। সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয় দ্রুত, যারা গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠ ঘিরে ফেলে। সিদ্ধান্ত হয় সভা বাতিল করে হেলিকপ্টারে তাকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হবে। রাত না নামতেই তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
জিয়া এবং এরশাদ পারে নাই তার মানে আমরা পারবো না এমন না। আজ আমাদের বহু বিএনপির ভাইয়ের মুখ ভেংচি দিয়েছেন। যেনো গোপালগঞ্জে গিয়ে আমরা মার খাবো আর উনারা আমাদের উদ্ধার করবেন। প্রিয় ভাইয়েরা, সেদিন আপনারা জিয়াউর রহমানকেই মঞ্চে উঠাতে পারেন নাই ভুলে যেয়েন না। ভুলে যেয়েন না বেগম জিয়ার জন্যও আপনারা কিছুই করতে পারেন নাই। হ্যাঁ, যা করার আমরাই করেছি।
মনে রাখবেন, গণ-অভ্যুত্থানের অংশ নেওয়া বিপ্লবীদের রাজনৈতিক দল এনসিপি। এনসিপি কারো ভয়ে ভীত নয়। এনসিপি সব দুর্ভেদ্য ভেঙে নতুন রাজনীতি গড়তে বদ্ধ পরিকর। এনসিপি দমে যাবার নয়। এনসিপি অপ্রতিরোধ্য।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ




