অ্যামাজন প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রযুক্তি জগতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি জেফ বেজোস সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে গোপনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। বৈঠকটি এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে।
হোয়াইট হাউসের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনবিসি-র এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বেজোসের এই গোপন সফরের প্রমাণ মেলে টেক বিলিয়নেয়ারদের ব্যক্তিগত বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রোগ্রামার জ্যাক সুইনির প্রকাশিত তথ্যেও। তিনি জানান, বেজোসের মালিকানাধীন একটি গালফস্ট্রিম জি-৭০০ ব্যক্তিগত জেট ভার্জিনিয়ার ডালাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং পরদিনই সেখান থেকে উড্ডয়ন করে।
যদিও এই বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে সে বিষয়ে সরাসরি কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে সিএনবিসি ধারণা করছে যে আলোচনার পেছনে মূল কারণ হতে পারে মহাকাশ সংক্রান্ত সরকারি চুক্তি। বেজোসের মহাকাশ সংস্থা ব্লু অরিজিন, ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, বর্তমানে নাসার বিভিন্ন প্রকল্পে অংশগ্রহণের চেষ্টা করছে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে ব্লু অরিজিনের বর্তমান সিইও ডেভ লিম্প-ও সম্প্রতি হোয়াইট হাউস সফর করেছেন সরকারি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে।
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে বেজোসের সাথে তার সম্পর্ক উন্নতির দিকে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথম মেয়াদে উভয়ের মধ্যে ছিল ব্যাপক শত্রুতা, বিশেষ করে ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদনের কারণে, যা বেজোসের মালিকানাধীন। তবে সম্প্রতি ট্রাম্প তার করবৃদ্ধি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অ্যামাজনের নীতিকে স্বাগত জানিয়ে বেজোসকে ‘ভালো এবং আশ্চর্যজনক ব্যক্তি’ বলে প্রশংসা করেন।
আরো একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, বেজোস ও ট্রাম্পের মধ্যে এই সাক্ষাৎ ইলন মাস্কের সাথে ট্রাম্পের সম্পর্ক অবনতির প্রেক্ষাপটে ঘটেছে। সিএনবিসি জানিয়েছে, মাস্কের সাথে দূরত্ব তৈরির পর ট্রাম্প বেজোসের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেন।
এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে বেজোস ব্লু অরিজিনকে নাসার গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ চুক্তির প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিতে চাইছেন, যেখানে মাস্কের স্পেসএক্স আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
যদিও আলোচনার প্রকৃত বিষয়বস্তু গোপন রাখা হয়েছে। তবে এই বৈঠক ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ও মহাকাশ খাতে শক্তিশালী রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সূত্র : আল জাজিরা




