ট্রাম্প

ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকাকালীন ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি বন্ড ক্রয়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের কোম্পানি ও পৌর বন্ড ক্রয় করেছেন বলে তার সাম্প্রতিক আর্থিক প্রকাশে জানা গেছে। এটি বিলিয়নেয়ার প্রেসিডেন্টের ক্ষমতায় থাকাকালীন সম্পদ ব্যবস্থাপনার একটি ঝলক প্রকাশ করেছে।

বুধবার মার্কিন সরকারের নীতিশাস্ত্র অফিস কর্তৃক প্রকাশিত ফাইলিং অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি শপথ নেওয়ার দিন থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত ট্রাম্প প্রায় ৭০০টি আর্থিক ক্রয় সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে আর্থিক জায়ান্ট ওয়েলস ফার্গো, মরগান স্ট্যানলি ও সিটিগ্রুপের জারি করা বন্ড। এছাড়াও মেটা, ইউনাইটেডহেলথ, টি-মোবাইল এবং দ্য হোম ডিপো-এর মতো কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বন্ডও তার পোর্টফোলিওতে যুক্ত হয়েছে।

ট্রাম্প টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও নিউ ইয়র্কসহ কয়েক ডজন মার্কিন রাজ্যের পৌর বন্ডেও বিনিয়োগ করেছেন। এসব বিনিয়োগের আওতায় হাসপাতাল, স্কুল, বিমানবন্দর, বন্দর ও গ্যাস প্রকল্পের মতো অবকাঠামো খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নথিতে প্রতিটি লেনদেনের সুনির্দিষ্ট মূল্য উল্লেখ করা না হলেও বিস্তৃত সীমা দেয়া হয়েছে। যেমন ১ লাখ এক ডলার থেকে আড়াই লাখ ডলার বা ১০ লাখ এক ডলার থেকে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত। এ সময়ে ট্রাম্প কোনো বিক্রয়ের তথ্য দেননি।

বন্ড মূলত এক ধরনের স্থির-আয়ের বিনিয়োগ, যেখানে সরকারি কর্তৃপক্ষ বা কোম্পানিকে নির্দিষ্ট সুদের হারে ঋণ দেয়া হয়।

হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য না করলেও মার্কিন গণমাধ্যম প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ট্রাম্প ও তার পরিবার সরাসরি এসব লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পর ১৯৭৮ সালে গৃহীত আইনে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের আর্থিক বিবরণী প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হলেও, সম্ভাব্য স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করতে পারে এমন সম্পদ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে ট্রাম্পের আগে ১৯৭৮ সাল থেকে প্রতিটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর হয় একটি অন্ধ ট্রাস্ট স্থাপন করেছিলেন অথবা বৈচিত্র্যময় মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ সীমাবদ্ধ করেছিলেন।

ট্রাম্প বিতর্কিতভাবে সেই প্রথা ত্যাগ করেন এবং পরিবর্তে তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ তার সন্তানদের দ্বারা পরিচালিত একটি ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করেন। এ নিয়ে সরকারি নীতিশাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও ব্যক্তিগত সম্পদের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।

প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসনের হোয়াইট হাউস নীতিশাস্ত্র বিভাগের প্রধান আইনজীবী রিচার্ড পেইন্টার বলেন, যদি ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমায়, তাহলে ট্রাম্পের বন্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, “যখন সুদের হার কমে যায়, তখন বন্ডের দামও বেড়ে যায়। সুদের হার কমানোর জন্য তিনি ফেডের উপর নির্ভর করছেন—এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।”

যদিও ট্রাম্পের সঠিক সম্পদের পরিমাণ স্পষ্ট নয়, ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স গত মাসে তার সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৬.৪ বিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করেছে।

সূত্র : আল জাজিরা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top