নেতানিয়াহু, ট্রাম্প, হোয়াইট হাউস, গাজা যুদ্ধবিরতি, মধ্যপ্রাচ্য

ডানপন্থী মার্কিনিরা কেন ইসরাইলের বিরুদ্ধে যাচ্ছে

ব্রিটিশ ম্যাগাজিন নিউ স্টেটসম্যান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, দীর্ঘদিনের ইসরাইল-সমর্থনের ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও আমেরিকান ডানপন্থীদের মধ্যে এখন ধীরে ধীরে এর বিরুদ্ধে ঝোঁক তৈরি হচ্ছে। লেখক লি সিগেলের মতে, এটি একটি আমূল পরিবর্তন।

রাজনৈতিক বিজ্ঞানী জন মিয়ারশাইমার সম্প্রতি টাকার কার্লসনের পডকাস্টে বলেন, ইহুদিবাদী প্রকল্প মূলত বর্ণবাদী এবং এর শুরু থেকেই জাতিগত নির্মূলের উদ্দেশ্য ছিল। সিগেল উল্লেখ করেন, এটি মিয়ারশাইমারের নতুন অবস্থান নয়; ২০০৭ সালে স্টিফেন ওয়াল্টের সঙ্গে লেখা দ্য ইসরাইল লবি বইতেও তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে ওয়াশিংটনের ইসরাইলপন্থী দলগুলো মার্কিন নীতি প্রভাবিত করছে।

সিগেলের বিশ্লেষণে বলা হয়, ঠান্ডা যুদ্ধ আমেরিকার ইসরাইল-সমর্থনের মূল কারণ ছিল, আর ইরাক আক্রমণের পেছনে ইসরাইল লবি নয়, বরং আমেরিকান তেল ব্যবসায়ীদের স্বার্থ কাজ করেছে। তবে স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী ১৮ বছরে এবং গাজায় প্রায় দুই বছর ধরে চলা ফিলিস্তিনি গণনিধনের পর মিয়ারশাইমারের মূল ধারণা আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে।

লেখক বলেন, আমেরিকার অতি-ডানপন্থীরা ঐতিহাসিকভাবে ইহুদি-বিরোধী ছিল। যেহেতু এই ধারা এখন মূলধারায় স্থান করে নিয়েছে এবং তথাকথিত মধ্যপন্থী রক্ষণশীলতাকে সরিয়ে দিচ্ছে, তাই ইহুদি-বিরোধিতাও মূলধারায় প্রবেশ করছে। ট্রাম্প ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন বজায় রাখলেও মাঝে মাঝে হালকা সমালোচনার মাধ্যমে অতি-ডান ইহুদি-বিরোধীদের সন্তুষ্ট রাখছেন।

সিগেলের মতে, ডানপন্থীরা এখন ফিলিস্তিনি-পন্থী আবেগকে ব্যবহার করে বামপন্থীদের জনপ্রিয়তা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। তাদের লক্ষ্য দুটি—প্রথমত, বামপন্থীদের ইহুদি-বিরোধিতার অভিযোগে চাপে ফেলা; দ্বিতীয়ত, MAGA আন্দোলনের ইহুদি-বিরোধী অংশকে শক্তিশালী করা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুর নীতি সমর্থন করে ডানপন্থীদের মধ্যে ইহুদি-বিরোধী মনোভাব উসকে দিচ্ছেন, একই সাথে প্রকাশ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থনের কথাও বলছেন। লেখক উদাহরণ হিসেবে ট্রাম্পের ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবির উল্লেখ করেন, যিনি বিশ্বাস করেন মশীহের আগমনের আগে যারা খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করবে না সেই ইহুদিদের ধ্বংস হবে।

লি সিগেলের উপসংহার অনুযায়ী, ইসরাইলের প্রতি ডানপন্থীদের আসক্তি এবং ইহুদি-বিরোধিতা—দুটিই এখন একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে, যদিও এই জটিল সম্পর্ক নব্য-রক্ষণশীলদের ইসরাইলপন্থী অবস্থান থেকে অনেকটাই ভিন্ন।

সূত্র : আল জাজিরা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top