বাংলাদেশে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় স্থাপনের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। অথচ এই বিষয়ে দেশের মানুষের মনে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। বিশ্বের ১৮টি দেশে এই কার্যালয় খোলার পর দেখা গেছে, একটির পর একটি দেশে জাতিসঙ্ঘের নামে সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ বেড়েছে, ধর্ম ও সংস্কৃতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
বাংলাদেশে এই কার্যালয় স্থাপনের বিরোধীরা মূলত তিনটি বাস্তব অবস্থান তুলে ধরছে:
১. জাতীয় অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা হুমকিতে পড়তে পারে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি সহায়তায় সক্রিয় অমুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ও কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া বিশ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রশ্ন তুলে এদেশের জাতীয় সংহতি, মুসলিম সংখ্যাগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক অখণ্ডতায় হস্তক্ষেপ করা হবে। ইতিহাসে পূর্ব তৈমুর ও দক্ষিণ সুদানের মতো দৃষ্টান্ত আমাদের চোখের সামনে আছে।
২. মানবাধিকার বিষয়ে জাতিসঙ্ঘের দ্বিমুখী নীতি স্পষ্ট।
ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, আরাকান কিংবা আসামের মতো প্রকৃত মানবাধিকার বিপর্যয়ের এলাকায় জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশন কার্যত অকার্যকর। সে সব অঞ্চলে এরা কোনো স্থায়ী কার্যালয় তো খোলেইনি, বরং নির্যাতনের শিকার মুসলমানদের পক্ষে কোনো বলিষ্ঠ অবস্থানও নেয়নি।
৩. ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনাচারের সঙ্গে সঙ্ঘাত।
বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র। এই জাতির ঈমানি চেতনা, ধর্মীয় সংস্কৃতি ও জীবনব্যবস্থার ওপর যেন আন্তর্জাতিক আইন বা আদর্শ চাপিয়ে না দেওয়া হয়, সে বিষয়ে আমাদের সজাগ থাকা জরুরি।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এমন স্পষ্ট সার্বভৌমত্ব বিরোধী পদক্ষেপে দেশের গণমাধ্যম ও তথাকথিত মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর নীরবতা। অথচ এ দেশের আলেম সমাজ ও ইসলামী দলসমূহই প্রথম প্রতিবাদ জানিয়েছে, জনসাধারণের উদ্বেগকে সামনে এনেছে।
আমরা সাধারণ আলেম সমাজ মনে করি, এটি শুধু একটি কার্যালয় নয়, এটি একটি দৃষ্টিভঙ্গি। যা মুসলিম সমাজের নৈতিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে পাশ কাটিয়ে বৈশ্বিক আদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার একটি কৌশল। একে প্রতিহত করতে হবে ধর্মপ্রাণ মানুষ, আলেম সমাজ, নাগরিক সমাজ এবং মূল্যবোধনির্ভর বাংলাদেশপন্থী সকল রাজনৈতিক শক্তিকে।
বাংলাদেশ কারও পরীক্ষাগার নয়। আমাদের আইন, আমাদের সমাজ ও আমাদের সংস্কৃতি আমাদেরই ঠিক করতে হবে। আন্তর্জাতিক চাপ নয়, জনগণের মূল্যবোধভিত্তিক বাংলাদেশপন্থাই হোক আগামীর রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতি। বাংলাদেশ স্বাধীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ। নেতৃত্ব নির্বাচনে আমরা আর পরনির্ভরশীলতার আশ্রয় চাই না।




