রাশিয়া, তালেবান, আফগানিস্তান,

তালেবান সরকারকে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিলো রাশিয়া

রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানিস্তানের তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা বিশ্বে প্রথম কোনো রাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই স্বীকৃতি দু’দেশের মধ্যে উৎপাদনশীল দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিকাশে গতি দেবে।

রাশিয়ার এই সিদ্ধান্ত এমন সময় এলো, যখন আন্তর্জাতিক পরিসরে তালেবান সরকারকে এখনো কোনো বিশ্ব সংস্থা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। জাতিসঙ্ঘ তালেবান প্রশাসনকে এখনো ‘কার্যত কর্তৃপক্ষ’ হিসেবে উল্লেখ করে।

২০২১ সালের আগস্টে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে। এরপর থেকেই মস্কো তালেবান সরকারের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিল। রাশিয়া তালেবানদের ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশ (আইএসকেপি)–এর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অংশীদার ও মিত্র হিসেবে বিবেচনা করছে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তালেবানদের ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মিত্র’ হিসেবে অভিহিত করেন। এপ্রিল মাসে রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট তালেবানদের ওপর থেকে ‘সন্ত্রাসী’ তকমা তুলে নেয়।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ওই মাসে বলেন, ‘কাবুলের নতুন কর্তৃপক্ষ বাস্তবতা’ এবং রাশিয়াকে তালেবানের প্রতি ‘বাস্তববাদী, আদর্শিক নয়’ এমন নীতি গ্রহণ করতে হবে।

তালেবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘এই সাহসী সিদ্ধান্ত অন্যদের জন্য একটি উদাহরণ হবে।’ তিনি জানান, স্বীকৃতি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর রাশিয়াই সবার আগে এগিয়ে এসেছে।

২০২২ ও ২০২৪ সালে তালেবান প্রতিনিধিদল সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক ফোরামে অংশ নেয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে তালেবানের শীর্ষ কূটনীতিকরা মস্কোতে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকও করেন।

মস্কোর এই পদক্ষেপে ওয়াশিংটনের কড়া নজর রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র তালেবানের শীর্ষ নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোটি কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করে রেখেছে, যার ফলে দেশটির ব্যাংকিং খাত আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে পড়ে আছে।

উল্লেখ্য, তালেবান ১৯৯৪ সালে গঠিত হয়, প্রধানত সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা সাবেক মুজাহিদিনদের দ্বারা। ২০০৩ সালে উত্তর ককেশাসে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থনের জন্য রাশিয়া তালেবানকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। কিন্তু তালেবানদের ২০২১ সালে পুনঃক্ষমতায় ফিরে আসার পর অঞ্চলজুড়ে প্রভাব বিস্তারে প্রতিযোগিতা শুরু হলে মস্কো তাদের অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য হয়।

তালেবানদের ক্ষমতা দখলের পর রাশিয়াই প্রথম দেশ যারা কাবুলে একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধি অফিস খোলে এবং আফগানিস্তানকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গ্যাস সরবরাহের ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা ঘোষণা করে।

সূত্র : আল জাজিরা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top