একাত্তর, মুক্তিযুদ্ধ, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ, বিপ্লবী, মুসলিম নেতা, বিজেপি, নারীবাদী,

দাওয়াতের মঞ্চ থেকে জঙ্গির তালিকায়- জুলুমের নতুন রূপ

মাওলানা শরীফ মুহাম্মাদ

ইসলামের দাওয়াহ ও প্রচারের কাজ যারা করেন, তারা ইসলাম অনুযায়ী ব্যক্তির শুদ্ধি ও সমাজের সুস্থতা নির্মাণের কথা বলেন, চেষ্টা করেন। একইসঙ্গে প্রকৃত কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ইসলামি অনুশাসন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার কথাও বলেন। ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার এই আহ্বানকে আপনি রাষ্ট্রনৈতিক সংগ্রামের দিক থেকেও দেখতে পারেন, ধর্মীয় আদর্শ অনুসরণের দিক থেকেও দেখতে পারেন। যৌথ চোখেও বিবেচনা করতে পারেন।

ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ইসলামী অনুশাসনে দেখার ও আহ্বান জানানোর এই চেষ্টাকে ‘অপরাধ’ হিসেবে বিবেচনা করার কোনো সুযোগ তো থাকার কথা না। কিন্তু আন্তর্জাতিক ইসলাম-বিদ্বেষী চক্রের ছক অনুযায়ী মুসলিম দেশগুলোতেও এ-জাতীয় আহ্বান ও চেষ্টাকে অপরাধ হিসেবে দেখার এবং শাস্তি দেওয়ার দুষ্ট প্রচেষ্টা বারবার সামনে এসেছে। বিগত ফ্যাসিবাদের ১৫ বছরে এই ‘অপরাধে’ বহু মানুষকে জ ঙ গি হিসেবে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, হ ত্যা করা হয়েছে। কোনোরকম স শ স্ত্র তৎপরতায় সংযুক্তি ছাড়া যার কোনো সুযোগই নেই। এমনকি কোনো আদর্শ কিংবা মিশনের জন্য কেউ কিংবা কোনো গ্রুপ স শ স্ত্র তৎপরতায় যুক্ত হলে তাদেরকে শাস্তি দিতে হলেও প্রচলিত বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অগ্রসর হতে হবে। এর অন্যথা করার সুযোগ রাষ্ট্রের নাই।

খবরে এবং সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ও অভিব্যক্তিতে জানা গেছে, সম্প্রতি একজন জনপ্রিয় তরুণ দাঈ আলেম এবং জনপ্রিয় দুজন তরুণ ইসলামি লেখক ও দাঈ-কে জ ঙ গি তৎপরতায় যুক্ত হিসেবে পুলিশের একটি শাখার পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। জুলুমের এই পুরোনো খেলা এদেশের নতুন সময়ে নতুনভাবে চালু করার কী উদ্দেশ্য? এরা সবাই মেধাবী এবং সমাজের সর্বস্তরে ইসলাম প্রতিপালন ও প্রতিষ্ঠার আহ্বানকারী। এটাই কি এদের অপরাধ? এটা কি অন্যায় নয়? এটা কি ক্ষমতায়িত জুলুম নয়? দেশি-বিদেশি দুষ্টচক্রের কাছে আত্মসমর্পণ নয়?

এ-দেশে খ্রি স্টা ন মিশ নারিরা, হি ন্দু ই সক নেরা তাদের মিশন বাস্তবায়নে ‘বীরদর্পে’ কাজ করতে পারছে। বাম রাজনীতি ও কমিউনিজমের দেশ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারছে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের কাউকে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। ইসলামি অনুশাসন অনুযায়ী সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান জানালে অপরাধ হবে কেন? জ ঙ গি হয়ে যেতে হবে কেন? যদি স শ স্ত্র কোনো তৎপরতার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ তাদের বিপক্ষে না থাকে? প্রশাসনের উপর-নিচ, দেশের ভেতরে-বাইরে যেখান থেকেই জুলুমি তৎপরতা চালানো হোক, এসবের প্রতিবাদ করি, নিন্দা জানাই এবং এসব বন্ধ করতে জোরালো আহ্বান জানাই। দুষ্ট বুদ্ধি দিয়ে, দুষ্ট পদক্ষেপে অস্থিরতা তৈরি করা যায়, দেশে শান্তি আনা যায় না, দেশকে এগিয়ে নেওয়া যায় না। আল্লাহ তাআলা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুবুদ্ধি ও যথার্থ উপলব্ধি দান করুন এবং অকল্যাণ থেকে সবাইকে হেফাজত করুন।

লেখক : বুদ্ধিজীবী আলেম ও প্রবীণ সাংবাদিক

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top