দামেস্কের দক্ষিণে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় ছয়জন সিরীয় সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোরে রাজধানীর উপকণ্ঠ আল-কিসওয়া শহরের কাছে সেনা অবস্থান লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয় বলে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এল এখবারিয়া টিভি জানিয়েছে। ঘটনাটি এমন সময় ঘটল যখন এর একদিন আগে সিরিয়া ইসরাইলের নতুন এক সামরিক অনুপ্রবেশের নিন্দা করেছিল।
গত ডিসেম্বর বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে ইসরাইল সিরিয়া জুড়ে সামরিক স্থাপনা ও সম্পদের ওপর শত শত হামলা চালিয়ে আসছে। সর্বশেষ এই হামলাকে তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
ইসরাইল সম্প্রতি গোলান মালভূমিতে তার দখলদারিত্ব বাড়িয়ে সামরিকীকরণমুক্ত বাফার জোনের অংশ দখল করেছে, যা ১৯৭৪ সালে সিরিয়ার সঙ্গে স্বাক্ষরিত বিচ্ছিন্নতা চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার অভিযোগ করেছে, ইসরাইল হারমন পর্বতের আশপাশে সিরীয় সীমান্তের ভেতরে একটি অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নিতে ৬০ জন সেনা মোতায়েন করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ওই পাহাড়ি এলাকা থেকে দক্ষিণ সিরিয়ার বেইত জিন শহর ও লেবাননের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ইসরাইল এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি বলেন, ইসরাইল সামরিক নিরস্ত্রীকরণকৃত এলাকায় গোয়েন্দা সুবিধা ও সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করছে, যা তার ‘সম্প্রসারণবাদী ও বিভক্তির পরিকল্পনা’র অংশ।
সম্প্রতি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ ধারণার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীর, গাজা, লেবাননের কিছু অংশ, সিরিয়া, মিশর এবং জর্ডানের ভূখণ্ডকে নিজেদের দাবি করে। ৩১টি আরব ও ইসলামী দেশ এবং আরব লীগের জোট এ অবস্থানকে আন্তর্জাতিক আইন ও স্থিতিশীল আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তির ‘স্পষ্ট ও বিপজ্জনক লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
সিরিয়ায় সর্বশেষ ইসরাইলি সামরিক পদক্ষেপটি এসেছে ড্রুজ-সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশ সুওয়াইদায় মারাত্মক সংঘর্ষের পর। গত জুলাই মাসে ওই অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় এক সপ্তাহে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়, যা পরবর্তী যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে থেমে যায়। সিরিয়ার সেনাদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে ইসরাইল ড্রুজ জনগণকে রক্ষার অজুহাত তুলে রাজধানী দামেস্কের কেন্দ্রেও একাধিক হামলা চালিয়েছিল।
সূত্র : আল জাজিরা




