সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমে কিসওয়ায় একটি প্রাক্তন সেনা ব্যারাকে ইসরাইলি বাহিনী ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-এখবারিয়া টিভি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আল জাজিরার তথ্য যাচাইকারী সংস্থা কর্তৃক যাচাইকৃত ভিডিওতে বুধবার কিসওয়া গ্রামে ইসরাইলি বিমান হামলার দৃশ্য দেখা গেছে। একই দিন আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সিরিয়ার একটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী চারটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ওই ব্যারাকে অবতরণ অভিযান চালায়। তারা দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ঘটনাস্থলে অবস্থান করে কয়েক ডজন সৈন্য ও অনুসন্ধান সরঞ্জাম নিয়ে আসে। তবে এ অভিযানে সিরিয়ার সেনাদের সঙ্গে ইসরাইলি বাহিনীর সরাসরি সংঘর্ষ হয়নি।
কিসওয়ার কাছে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় ছয় সিরিয়ান সৈন্য নিহত হওয়ার একদিন পর এ অভিযান চালানো হলো। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি আহমেদ আল-শারা সরকারের কর্মকর্তারা ইসরাইলকে ওই অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের চেষ্টা করার অভিযোগ আনেন।
বুধবার এক বিবৃতিতে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলাটিকে “আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের চরম লঙ্ঘন” বলে আখ্যা দিয়ে জানায়, এটি দেশটির সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
ডিসেম্বরে প্রাক্তন নেতা বাশার আল-আসাদের পতনের পর থেকে ইসরাইল সিরিয়ার বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও সম্পদে শতাধিক হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি তারা বেসামরিকীকরণকৃত বাফার জোন দখল করে গোলান হাইটসে দখলদারিত্ব আরও বাড়িয়েছে, যা ১৯৭৪ সালের সিরিয়ার সঙ্গে স্বাক্ষরিত বিচ্ছিন্নতা চুক্তির লঙ্ঘন।
এদিকে সোমবার সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, লেবানন সীমান্তের কাছে হারমন পর্বতের আশপাশে সিরিয়ার ভেতরে একটি কৌশলগত পাহাড়ি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে ইসরাইল ৬০ জন সৈন্য মোতায়েন করেছে। সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি এটিকে “সম্প্রসারণবাদী ও বিভাজন পরিকল্পনা”র অংশ হিসেবে সামরিক অনুপ্রবেশ বলে নিন্দা জানান।
ইসরাইলের সর্বশেষ এসব অভিযান সুওয়াইদা প্রদেশে তীব্র সংঘর্ষের পর শুরু হয়েছে। জুলাই মাসে এক সপ্তাহব্যাপী সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় সেখানে ১,৪০০ জন নিহত হয়। এর পর থেকে ইসরাইল ড্রুজ জনগণকে রক্ষার অজুহাতে সিরিয়ার সেনাদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে এবং রাজধানী দামেস্কেও বোমা হামলা করছে।
সূত্র: আল জাজিরা ও সংবাদ সংস্থা




